Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

‘ভোট চুরি’ করে মুছে ফেলা হচ্ছে বিরোধী হাওয়া, জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

‘ভোট চুরি’ করে মুছে ফেলা হচ্ছে বিরোধী হাওয়া, জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি

রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, দেশে ভোট চুরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু ভোটাধিকার নয়, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তৈরি আইনের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। জ্ঞানেশ কুমারকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন রাহুল।

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। রাহুলের অভিযোগের মূল ভিত্তি এই ঘটনাই।

সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল বলেন, ভোট চুরি হলে তার পরিণতি শুধু একটি নির্বাচনের ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে দেশের আইন প্রণয়ন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বৈধতাও জড়িয়ে যায়।

তিনি বলেন, কংগ্রেস চোখের সামনে ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস হতে দেখে চুপ করে থাকবে না। রাহুলের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া বা সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রসঙ্গ।

তার প্রশ্ন— সাধারণত একটি সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া তৈরি হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ক্ষেত্রে সেই হাওয়া কেন দেখা যাচ্ছে না। ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা এবং বিজয়ের পর ইন্দিরা গান্ধী ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। কিন্তু তার কয়েক বছরের মধ্যেই তার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া তৈরি হয়েছিল। 

রাহুলের দাবি, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অতীতে এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। অথচ মোদি ও বিজেপির ক্ষেত্রে যেন সেই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।

তার বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ভোট গণনার সময় কীভাবে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া উধাও হয়ে যাচ্ছে, সেটিই তার প্রশ্ন।

রাহুল একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় অভিযোগ তুলে বলেন, ভোট চুরি, আইন চুরি এবং প্রতিষ্ঠান চুরির মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে নির্বাচন কমিশন রাহুলের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।

কমিশনের বক্তব্য, তিন সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় লিখিত মতামত, পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এসআইআর-সহ কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

রাহুলের অভিযোগ এবং কমিশনের বক্তব্যের মধ্যে দূরত্বই এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম