এফবিআইয়ের ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৩ এএম
হ্যাকারদের দাবি, তারা এফবিআইয়ের সব এজেন্টের নাম, পদ, ব্যাজ নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) প্রায় ৩৮ হাজার কর্মীর সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি করেছে সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘শাইনি হান্টার্স’। দাবিটি সত্য কি না, তা তদন্ত করছে এফবিআই।
হ্যাকারদের দাবি, তারা এফবিআইয়ের সব এজেন্টের নাম, পদ, ব্যাজ নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছে। এসব তথ্যের মধ্যে বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর ও স্বামী বা স্ত্রীর তথ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান অধ্যাপক সিয়ারান মার্টিন বলেন, দাবিটি সত্য প্রমাণিত হলে এটি তথ্য ফাঁসের ক্ষেত্রে যতটা গুরুতর হওয়া সম্ভব, ততটাই গুরুতর ঘটনা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই জানিয়েছে, তারা হ্যাকারদের দাবির বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি ‘সক্রিয়ভাবে ও কঠোরভাবে’ তদন্ত করছে।
হ্যাকারদের দাবি, সোমবার রাতে তারা এফবিআইয়ের সার্ভারে ঢুকে পড়ে। মঙ্গলবার থেকে তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুরি করা তথ্যের নমুনা ও পর্দার ছবি পাঠাতে শুরু করে। এছাড়াও বিবিসি চুরি করা তথ্যের একটি ছোট অংশ দেখেছে, যা সত্যিকারের বলে মনে হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া কিছু তথ্যে এফবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্মস্থল সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে চীনা গুপ্তচর, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত সংবেদনশীল কর্মকাণ্ডের তথ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।
‘শাইনি হান্টার্স’ একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী, যারা মূলত ফ্রান্স থেকে কার্যক্রম শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হয়। এপ্রিল মাসে রকস্টার গেমস এবং মে মাসে শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যানভাসে বড় ধরনের সাইবার হামলার পেছনেও গোষ্ঠীটির নাম উঠে এসেছে।
গোষ্ঠীটির দাবি, এফবিআই ব্যবহৃত ওরাকল ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থার একটি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তারা একাধিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এসবের মধ্যে এফবিআইজবস, কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা এফবিআই বিস্ট, এজেন্টদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী এফবিআই মেডলিংক এবং তদন্তসংক্রান্ত তথ্য রাখা এফবিআই বিকস রয়েছে।
তবে অর্থের জন্য এফবিআইয়ের ব্যবস্থা হ্যাক করা হয়নি বলে দাবি করেছে শাইনি হান্টার্স। বরং মে মাসে গোষ্ঠীটি সম্পর্কে এফবিআই প্রকাশিত একটি সতর্কবার্তা প্রত্যাহার বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তারা।
এফবিআই ওই সতর্কবার্তায় শাইনি হান্টার্সকে ‘হুমকি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিল, তারা প্রায়ই সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্যের মালিকানা দাবি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে।
শাইনি হান্টার্স জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া ‘মিথ্যা অভিযোগ’ সংশোধন বা প্রত্যাহারের জন্য এফবিআইকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। তা না হলে চুরি করা পুরো তথ্যভান্ডার প্রকাশ করা হবে।
এফবিআই বলেছে, তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষের ব্যবস্থায় হামলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রাইট ঘটনাটিকে ‘প্রতিশোধমূলক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলা দেখিয়েছে যে গোষ্ঠীটির হাত থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
এদিকে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেসের অ্যান্ড্রু ব্র্যান্ডট বলেন, এমন হুমকি এফবিআইকে হ্যাকারদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার জন্য আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি

-6ab69b2148d57.jpg)
-6ab685bf438b5.jpg)