লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে ওয়াংচুকের আলটিমেটাম
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ এএম
সোনম ওয়াংচুক।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন লাদাখের পরিচিত পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। একই সঙ্গে লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
ওয়াংচুক বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্র সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাবেন।
লাদাখের পরিবেশ, সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন সোনম ওয়াংচুক। সম্প্রতি দিল্লিতে লাদাখ ইস্যুতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।
তিনি জানান, গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেহ অ্যাপেক্স বডি এবং কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ওই বৈঠকের পরও লাদাখের দাবিগুলোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
ওয়াংচুক বলেন, লাদাখের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি হলো অঞ্চলটিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনা। পাশাপাশি গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর লেহতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবিও রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর আটক কয়েকজন এখনও কারাগারে রয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এছাড়া নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও দাবির তালিকায় রয়েছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে একটি রাজনৈতিক সংগঠন ২ অক্টোবর থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।
তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা। এ ধরনের দাবির প্রতি তিনি পূর্ণ সমর্থন জানান।
ওয়াংচুক আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে সব আন্দোলনে অংশ নেওয়া সম্ভব না হলেও গণতান্ত্রিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের প্রতি তিনি শুরু থেকেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তার মতে, জনগণের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সেই কণ্ঠস্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ২ অক্টোবরের মধ্যে লাদাখের দাবিগুলোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

-6ab96821bea65.jpg)