পাকিস্তানের এক প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির উদ্যোগ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে কেপিতে। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ১২ জেলায় জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব বিবেচনা করছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে প্রদেশের বাকি জেলাগুলোতে গভর্নর শাসন জারির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রদেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির সম্ভাব্য সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব বিবেচনায় থাকা ১২টি জেলার মধ্যে রয়েছে কুররাম, আপার সাউথ ওয়াজিরিস্তান, লোয়ার সাউথ ওয়াজিরিস্তান, নর্থ ওয়াজিরিস্তান, বাজাউর, মোহমান্দ, খাইবার, ওরাকজাই, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত, ট্যাংক ও ডেরা ইসমাইল খান।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির জন্য একটি ফাটা কাউন্সিল গঠন করা হতে পারে। অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত কাউন্সিলে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং প্রতিটি জেলার চারজন করে স্থানীয় প্রতিনিধি রাখার কথা রয়েছে। কাউন্সিলটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাজ করবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রদেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিশেষ প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হতে পারে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে এক বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্রের দাবি, সেখানে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে প্রাদেশিক গভর্নরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।
যদিও ওই বৈঠকের পর প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জরুরি অবস্থা জারির কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে সম্ভাব্য জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসনের বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির দাবি, এমন পদক্ষেপ প্রদেশটির জনগণের গণতান্ত্রিক রায় ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করবে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াবে।
পিটিআই বলেছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নির্বাচিত প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাবেক উপজাতীয় জেলাগুলোর বাসিন্দাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা বা গভর্নর শাসন জারির বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

