Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

কম দামের ক্যাসিও ঘড়ি পরছেন থাই মন্ত্রী-আমলারা, কারণ কী

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

কম দামের ক্যাসিও ঘড়ি পরছেন থাই মন্ত্রী-আমলারা, কারণ কী

Advertisement

থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে যেখানে দামি ঘড়িই এতদিন ক্ষমতার চেনা প্রতীক ছিল, সেখানে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৬০ ডলারেরও কম দামের একটি ঘড়ি—আর সেটি দিচ্ছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল-এর নাম খোদাই করা ‘ক্যাসিও এইই১২০০ডব্লিউএইচ’ ঘড়িটি এখন দেখা যাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, শীর্ষ আমলা এবং রাজনৈতিক মিত্রদের কব্জিতে।

বিশ্বের মানচিত্রসংবলিত রেট্রো-ফিউচারিস্টিক ডিজাইনের এই ডিজিটাল ঘড়িটিকে সবাই ভালোবেসে ‘ক্যাসিও রয়্যাল’ বলে ডাকেন। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থাকার এই প্রতীকটির কারণে এর ব্যবহারকারীদের বলা হচ্ছে ‘ক্যাসিও কানেকশন’।

দশকের পর দশক ধরে থাইল্যান্ডে স্থিতিশীল সরকার গঠনে যেসব ব্যক্তিগত সম্পর্ক বড় ভূমিকা রেখেছে, এই ঘড়িগুলো যেন তারই এক ঝলক। পাকা রাজনৈতিক কুশলী অনুতিন থাইল্যান্ডের বিভক্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দারুণ মিত্রতা গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তার দল ভুমিজাই থাই পার্টির প্রভাবশালী প্রাদেশিক পরিবারগুলো থেকে শুরু করে শক্তিশালী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও।

ঘড়ি পাওয়া ব্যক্তিদের একজন, উপ-পরিবহনমন্ত্রী সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমরা যা পরিধান করি তার মূল্য শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না। আমার কাছে এর আসল মূল্য হলো যিনি এটি উপহার দিয়েছেন তার মধ্যে।’ মন্ত্রিপরিষদের সাম্প্রতিক এক বৈঠকের পর অনুতিনের কাছ থেকে ঘড়িটি উপহার পান তিনি এবং এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই সেটি পরে আসছি। তিনি রসিকতা করে জানান, কয়েক হাজার ডলার দামের বিলাসবহুল ঘড়িগুলো তিনি প্রায় পরার কথাই ভুলে গেছেন।

সিরিপং জানান, ব্যাংককসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত ও কাজের ফাঁকে ছোট দোকান বা বাজার থেকে ক্যাসিও ঘড়িগুলো কিনে নেন অনুতিন। এরপর সেগুলোতে নিজের নাম খোদাই করে তারপর উপহার হিসেবে দেন। ঘড়ি পাওয়ার জন্য তাকেও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। ঘড়ি পাওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে মেটাল বেল্ট নাকি রেজিন বেল্ট পেয়েছেন, তা নিয়ে এমনকি তুলনাও শুরু করে দিয়েছেন।

সাধারণ এই ক্যাসিও ঘড়িগুলো ক্ষমতা প্রদর্শনের বৈশ্বিক ধারারই একটি অংশ, যেখানে সস্তা বা সাধারণ কোনো জিনিসও কারো সম্পদ, রুচি বা বিশেষ মহলে প্রবেশের নাগালকে ফুটিয়ে তুলতে পারে। অভিজাত মডেলিং এজেন্সির সাধারণ টিন ব্যাগের মতো এই ধরনের ছোটখাটো নিদর্শনগুলোও কোনো বিশেষ দলের সদস্যপদকে নির্দেশ করে।

সরকারি মুখপাত্র একাপব পিয়ানপিসেস অবশ্য এই উপহারগুলোর পেছনে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের ইঙ্গিত থাকার কথা নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী অনুতিন কেবল এর ব্যবহারিক সুবিধার জন্যই ঘড়িটি পছন্দ করেন এবং অন্যদের সঙ্গে তা ভাগ করে নিতে চান। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক কোনো কিছুর ইঙ্গিত নয়।’

‘আনুগত্যের অনুভূতি’

থাইল্যান্ডের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ঘড়ির সম্পর্ক বেশ পুরোনো। ২০১৭ সালে এর চেয়েও বড় এক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যখন তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী প্রাউত ওংসুয়ান একের পর এক দামি ঘড়ি পরে সামনে আসার পর দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের মুখোমুখি হন। প্রাউতের দাবি অনুযায়ী এক ধনী বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ২২টি ঘড়ি তদন্ত করে দেখে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী বছর তাকে এই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অনুতিনের নিজের সংগ্রহেও ৬০ মিলিয়নের বেশি বাথ (১.৮ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের ২২টি বিলাসবহুল ঘড়ি রয়েছে। সম্প্রতি ভুমিজাই পার্টির প্রভাবশালী নেতা নেভিন চিডচব-এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাকে ‘রোলেক্স ডে-ডেট ৪০’ পরে দেখা গেছে। আর ওই অনুষ্ঠানে নেভিন পরেছিলেন একটি ‘রিচার্ড মিল আরএম ৩০-০১’ ঘড়ি।

অবশ্য অনুতিনের দেওয়া ক্যাসিও ঘড়িগুলোর দাম ওই বিলাসবহুল ঘড়িগুলোর তুলনায় খুবই সামান্য। তবে সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশহাক ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো নাপন জাতুস্রিপিতাকের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে এগুলো নিজস্ব রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। নাপন বলেন, ‘এগুলো ভবিষ্যতে প্রতিদান দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারে এবং প্রাপকের মনে অনুগত থাকার ও নির্দেশ মেনে চলার মনোভাব গড়ে তুলতে পারে।’

রাজনৈতিকভাবে এই উপহার পাওয়ার তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর একজন থামানাত প্রমপাও। প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ‘ক্লা থাম পার্টি’ অনুতিনের ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার কব্জিতে খোদাই করা ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়ার পর নতুন এই জোট নিয়ে গুঞ্জন আরও বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে যখন তার দলের সাধারণ সম্পাদক ইঙ্গিত দেন যে ঘড়িটি সরাসরি অনুতিনের কব্জি থেকেই এসেছে।

নাপন বলেন, ‘এই ঘড়িগুলোর মাধ্যমে অনুতিন নিঃসন্দেহে বন্ধু, অনুসারী এবং নতুন বলয় তৈরি করছেন।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

ধ্বংসস্তূপ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার, মোদির উত্থানের নেপথ্যে যে ভূমিকম্প

ধ্বংসস্তূপ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার, মোদির উত্থানের নেপথ্যে যে ভূমিকম্প

জনগণের প্রতিটি পয়সা যেন দেশের স্বার্থে ব্যয় হয়

কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা জনগণের প্রতিটি পয়সা যেন দেশের স্বার্থে ব্যয় হয়

বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মারুবেনি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আরও পড়ুন

শাশুড়ির হাতে বেতন-শ্বশুরকে দিতে হবে ফ্ল্যাট, অসহনীয় নির্যাতনে নারী প্রযুক্তিবিদের আত্মহত্যা

শাশুড়ির হাতে বেতন-শ্বশুরকে দিতে হবে ফ্ল্যাট, অসহনীয় নির্যাতনে নারী প্রযুক্তিবিদের আত্মহত্যা

দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অভিনব হাস্যরসের জন্ম দিলেন নতুন মার্কিন প্রেস সচিব

দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অভিনব হাস্যরসের জন্ম দিলেন নতুন মার্কিন প্রেস সচিব

পাকিস্তানের ডিআই খানে ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি

পাকিস্তানের ডিআই খানে ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি

মার্কিন ব্যাংককে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, কারণ কী?

মার্কিন ব্যাংককে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা, কারণ কী?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম