‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এসব পরিকল্পনায় দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) ব্যবহারের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। এটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন, তাহলে এসব পরিকল্পনা কার্যকর করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিংবা পরে—দুই সময়ের জন্যই এ ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ‘এমওএবি’ ব্যবহার করা হয়নি। তাই এই বোমা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সংঘাতকে আরও বড় মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।
তবে এই অস্ত্র ব্যবহার করে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা যাবে কি না কিংবা যুদ্ধের গতিপথ বদলানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এসব পরিকল্পনায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, ‘এমওএবি’ ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনাতেও এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারণা, ইরান সেখানে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিভিন্ন উপাদান সংরক্ষণ করেছে। ট্রাম্পও একাধিকবার ওই স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন।
তবে এসব স্থাপনায় বোমাটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘এমওএবি’ একটি জিপিএস-নির্দেশিত বিশাল বোমা। এর বিস্ফোরণে প্রায় নয়টি শহুরে ব্লকের সমান এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে।
তবে শক্ত গ্রানাইট পাথরের একাধিক স্তরের নিচে অবস্থিত গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার মতো গভীরতায় বোমাটি পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিশাল এলাকা ধ্বংস করার জন্য অস্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে; গভীর ভূগর্ভে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য নয়।
জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে এ বোমা ব্যবহার করা হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এমওএবি’ ব্যবহারের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য শুধু সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা নয়; এর মাধ্যমে ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপও সৃষ্টি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক দাবিতে ইরান নতি স্বীকার করতে অনিচ্ছুক—এমন পরিস্থিতিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু না করেও শক্তির প্রদর্শন হিসেবে এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘এমওএবি’ তৈরির সময় থেকেই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে আইএসের সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ‘এমওএবি’ ব্যবহার করেছিল।
এবার ইরানের বিরুদ্ধে এই বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এটি ব্যবহারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।


