ইউক্রেনের যুদ্ধাস্ত্রে লাগাম টানল স্টারলিংক, নেপথ্যে ট্রাম্প?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
স্টারলিংকের নতুন গতিসীমার কারণে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে বিঘ্ন ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত কিছু অস্ত্রের গতি সীমিত করা এবং সেগুলোর সঙ্গে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে মার্কিন সরকারের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তার দাবি, স্টারশিল্ড সেবার গতি ও ব্যবহারসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম স্টারলিংক। এর মাধ্যমে ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন পরিচালনা করার পাশাপাশি নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সহায়তা পায়। কিন্তু মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে স্টারলিংকের নতুন গতিসীমার কারণে ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা মনে করেন, এই বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনা নিছক প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়। ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের সেবা স্টারলিংক মঙ্গলবার রাতে সংযুক্ত অস্ত্রের গতিসীমা ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনে। ফলে এর চেয়ে বেশি গতিতে চলা অস্ত্রগুলো স্টারলিংক নেটওয়ার্কের সংযোগ হারাচ্ছিল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে সংযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার স্বার্থে স্টারশিল্ডের গতিসীমা পুরোপুরি তুলে নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। এ সময় মাস্ককে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তার অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন ফেদোরভ।
প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই পোস্টের জবাব দেন মাস্ক। তিনি জানান, স্টারশিল্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে।
মাস্ক লেখেন, ‘গতি বা ব্যবহারের ওপর যেকোনো সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট।’
স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?
মাস্ক আরও বলেন, স্টারলিংক মূলত বেসামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য তৈরি। কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে এ সেবা ব্যবহার করা অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড—দুটিই স্পেসএক্সের মালিকানাধীন হলেও তাদের ব্যবহারের ধরন আলাদা।
- স্টারলিংক: নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেয়। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ স্থাপনে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
- স্টারশিল্ড: সরকারি ও সামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবা।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
রাশিয়ার হামলার মধ্যেই যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন
স্টারলিংকের ওপর গতিসীমা আরোপের সময়ই ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা চলছিল। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মানুষ নিহত হন। দেশটির সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
জেলেনস্কি রাশিয়ার ওই হামলাকে অন্যতম বৃহৎ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
হামলার পর ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, ড্রোন আঘাত হানার আগে তারা কোনো সতর্কবার্তা পাননি।
বুধবার সকালে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কির উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, এই পদক্ষেপ কোনো কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। এর সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে।’
তবে স্টারলিংকের বিধিনিষেধ রাজনৈতিক কারণে আরোপ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে স্টারলিংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এ সেবায় যেকোনো পরিবর্তন দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দ্রুতগতির ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রের সঙ্গে সংযোগ বিঘ্নিত হলে অভিযান পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারশিল্ডের ব্যবহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে। তবে ইউক্রেনের অস্ত্রে স্টারলিংকের গতি সীমিত করার নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তটি কার নির্দেশে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ঘটনায় ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


