বিশেষ দূতের পদ থেকে বাদ নোয়েম, নতুন দায়িত্বে ট্রাম্পের উপদেষ্টা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ক্রিস্টি নোয়েম। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগের বিশেষ দূতের পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ক্রিস্টি নোয়েমের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে। তিনি এখন আর ওই পদে নেই। বর্তমানে তিনি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন এবং শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস উদ্যোগের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন।
‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ হলো ট্রাম্প প্রশাসনের গঠিত একটি জোট। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ রয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানো এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে নোয়েমের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়। তবে এরপরও উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন নোয়েম। ওই সময় ইকুয়েডর সরকার তাকে শিল্ড অব দ্য আমেরিকাসের বিশেষ দূত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ ছাড়া ট্রাম্পের আয়োজনে জোটের নেতাদের একটি বৈঠকেও অংশ নেন তিনি। সেখানে নোয়েমের কাজের প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, ‘ক্রিস্টি নোয়েমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সত্যিই দারুণ কাজ করেছেন।’
এর আগে গত মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর নোয়েমকে শিল্ড অব দ্য আমেরিকাসের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিভাগ পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং উপদেষ্টা কোরি লেভানডস্কির প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মধ্যে তাকে ওই পদ থেকে সরানো হয়।
বিশেষ দূতের দায়িত্ব পাওয়ার সময় মার্চেই লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশ সফর করেন নোয়েম। সফরের বেশির ভাগ সময় তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সফরকালে বিভিন্ন ছবিতে লেভানডস্কিকে নোয়েমের সঙ্গে দেখা গেলেও পরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, দপ্তরটিতে লেভানডস্কির কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না।
বিশেষ দূত হিসেবে নোয়েমের প্রকাশ্য কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এর মধ্যে গত ২৫ মার্চ ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোতে প্রেসিডেন্ট নোবোয়ার সঙ্গে বৈঠক, সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ দূতের দায়িত্ব শেষ হলেও ট্রাম্প প্রশাসনে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন নোয়েম।

