‘ওর শরীর সাপের মতো’, আদালতে ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেলের বিরুদ্ধে নারীর অভিযোগ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
রাসেল ব্র্যান্ড। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাজ্যের অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন এক নারী। তার দাবি, ১৯৯৯ সালে লেবার পার্টির সম্মেলনের সময় একটি হোটেলকক্ষে ব্র্যান্ড তাকে ধর্ষণ করেন।
ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার শরীরকে ‘সাপের মতো ও ঘৃণ্য’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। তবে ব্র্যান্ড তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে পুলিশের কাছে ওই নারীর দেওয়া সাক্ষাৎকারের রেকর্ডিং শোনানো হয়।
সেখানে তিনি বলেন, প্রথমে ব্র্যান্ডকে সমকামী মনে করায় তার সঙ্গে হোটেলকক্ষে কথা বলতে নিরাপদ বোধ করেছিলেন। কিন্তু বাথরুম থেকে ফিরে ব্র্যান্ডকে প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান।
ওই নারী বলেন, তার শরীরটা আমার কাছে সাপের মতো, খুবই ঘৃণ্য মনে হয়েছিল। সত্যি বলতে, এতে আমার বমি বমি লাগছিল।
অভিযোগকারীর মতে, হোটেলকক্ষে ব্র্যান্ডকে কফি বানাতে বলার পর তিনি বাথরুমে যান। ফিরে এসে দেখেন, ব্র্যান্ডের পরনে কেবল ছোট অন্তর্বাস। তিনি ঘরের মধ্যে অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং বিছানায় বসেছিলেন।
ওই নারীর দাবি, ব্র্যান্ড তাকে নিজের খালি গায়ের ছবি তুলতে বলেন। এরপর তাকে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে শুইয়ে পোশাক খুলে ফেলেন। তিনি ব্র্যান্ডকে বাধা দেওয়ার এবং চুমু খাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।
পুলিশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই নারী বলেন, ‘আমার মনে আছে, সে আমার ওপর শুয়ে ছিল, খুব ভারীভাবে। আর আমি তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে ব্র্যান্ড তার মুখে আঙুল ঢুকিয়ে দেন, এতে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তার দাবি, তিনি যৌন সম্পর্ক চাননি এবং ব্র্যান্ড তা বুঝতে পেরেও থামেননি।
আদালতে ওই নারী বলেন, ঘটনার সময় ব্র্যান্ড বারবার তাকে বলছিলেন, ‘উপভোগ করো, উপভোগ করো।’ তার মতে, ‘এমন একটা বিষয় উপভোগ করতে আমাকে যেন জোর করা হচ্ছিল, যা আমি চাইনি।’
অভিযোগকারীর দাবি, কথিত ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় বাথরুমে বসে শরীর পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। তখন তিনি আতঙ্কিত ও অসহায় বোধ করছিলেন।
‘আমি তাকে আকর্ষণীয় মনে করিনি’
ব্র্যান্ডের আইনজীবী ইয়ান উইন্টার জেরার সময় দাবি করেন, তার মক্কেলের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন ওই নারী। তবে অভিযোগকারী তা অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রতি মুগ্ধ হয়ে পড়িনি, তাকে আকর্ষণীয়ও মনে করিনি। আমি ভেবেছিলাম, তিনি সমকামী।’
ওই নারী আরও বলেন, ব্র্যান্ডকে হোটেলকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘ওটা ছিল আমার অফিস, আমার কাজের জায়গা। তিনি সেই ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘন করেছেন।’
বিচার চলাকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অভিযোগকারী। তিনি দাবি করেন, ব্র্যান্ডের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে তার সম্মতি ছিল না। ঘটনার সময় তিনি বাধা দিতে পারেননি বলেও আদালতকে জানান।
সাতটি অভিযোগে বিচার চলছে
৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণ, তিনটি যৌন নিপীড়ন এবং একটি অশালীন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ছয় নারীর সঙ্গে সংঘটিত কথিত ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, ব্র্যান্ডের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল এবং তিনি নারীদের কাছ থেকে যা শুনতে চাইতেন, তা বলেই তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন।
ব্র্যান্ড সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলার বিচার চলছে। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি।


