গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন
ট্রাম্প-পুতিন ঘনিষ্ঠতায় ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন না; বরং তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বার্থকেই এগিয়ে নিচ্ছে। ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা কমানো, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি এবং রাশিয়ার তেল কেনার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক জোনাথন ফ্রিডল্যান্ড। তার মতে, ট্রাম্প বারবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেও পশ্চিমা দেশগুলো তার তাৎপর্য পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখন আর মুক্ত বিশ্বের নির্ভরযোগ্য নেতা নন; বরং পশ্চিমা জোটের প্রধান প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের আচরণেই এর ইঙ্গিত ছিল। সেদিন জেলেনস্কিকে অপমান করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তার হাতে দর-কষাকষির মতো কোনো তাস নেই। এরপরও যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বন্ধ হয়নি।
সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহৃত ইলন মাস্কের স্টারলিংক ব্যবস্থার একটি সংস্করণে গতি সীমিত করা হয়। ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে চলা ড্রোনের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। এতে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পেছনে হামলা চালানোর সক্ষমতা কমার পাশাপাশি রাজধানীকে রুশ ড্রোন থেকে রক্ষার ব্যবস্থাও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ফ্রিডল্যান্ড লিখেছেন, সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড ব্যবস্থার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের নির্দেশ এসেছিল হোয়াইট হাউস থেকে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, এ সিদ্ধান্তের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম গোয়েন্দা সতর্কতা দেওয়ার ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের রুশ ডিজেল তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, এতে পুতিনের যুদ্ধ পরিচালনার অর্থভান্ডার শক্তিশালী হতে পারে।
ফ্রিডল্যান্ডের মতে, রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের এই অবস্থানের পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, আদর্শিক অবস্থান কিংবা কর্তৃত্ববাদী নেতাদের প্রতি আকর্ষণ—বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে কারণ যা-ই হোক, পশ্চিমা জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও ইউরোপের দেশগুলোর স্বস্তিতে ভেসে যাওয়া উচিত হবে না। কংগ্রেসের বাধার মুখে ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। এমনকি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হলেও তার রাজনৈতিক ধারা বা ‘ট্রাম্পবাদ’ পশ্চিমা জোটের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।
লেখকের মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা এখন আর পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নিশ্চিত করা যাবে না। স্টারলিংকের ঘটনাটি দেখিয়েছে, মার্কিন প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিদ্ধান্তেই সীমিত হয়ে যেতে পারে। তাই যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোকে নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনী গড়ে তুলে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে আরও জোরালো সমর্থন দিতে হবে।
ফ্রিডল্যান্ডের সতর্কবার্তা হলো, পশ্চিমা জোটের ঐক্য চিরস্থায়ী বা অটুট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন পুরো জোটের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে দিতে পারে। এ বাস্তবতায় ইউরোপকে নতুন ও আরও বিপজ্জনক বিশ্বপরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

