বিমান ছিনতাইয়ের সেই ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন ভারতীয় পাইলট মাচ্ছর
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
স্মিত মাচ্ছ। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত মাসে ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা ঠেকিয়ে আলোচনায় আসা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর সামনে এনেছেন নতুন এক তথ্য। বিমানটি অবতরণে ইসরাইলি প্লাম্বারের সহযোগিতার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ানিভ হায়ুন নামের এক ইসরাইলি প্লাম্বার দাবি করেছিলেন, তিনি ককপিটে ঢুকে ওমানি সহকারী পাইলটকে কাবু করেন এবং উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ ও অবতরণে সহায়তা করেন। তবে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের বক্তব্যে ওই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুড়াল দিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে বারবার আঘাত করেন। এ সময় ১৭২ জন যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়।
ওই সময় গুরুতর আহত হলেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন মাচ্ছর। পরে যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে আটকে ফেলেন বলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ঘটনায় সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর জন্য প্রশংসিত হন ভারতীয় এই পাইলট।
উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণের পর হায়ুন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, তিনি হামলাকারীকে গলায় চেপে ধরে ককপিটের বাইরে টেনে নিয়ে যান। এমনকি টেলিভিশনের এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন সিরিজ দেখে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণের কৌশল শিখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে দ্য ন্যাশনাল পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচ্ছর বলেন, সত্যি বলতে, প্লাম্বারের এই গল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় তার সমস্ত মনোযোগ ছিল নিজের জীবন বাঁচানোর দিকে। একজন প্লাম্বার কি উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে পারেন? এ নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনায় যেতে চাই না।
হামলার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে মাচ্ছর জানান, প্রথম আঘাতের সময় তিনি ভেবেছিলেন উড়োজাহাজের কাঠামোয় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু দ্রুত বুঝতে পারেন, সহকারী পাইলটই তাকে আক্রমণ করছেন। এরপর সিটবেল্ট খুলে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন এবং যতটা সম্ভব আঘাত ঠেকান। হামলাকারী মূলত তার মাথায় আঘাত করছিলেন; আত্মরক্ষার সময় তার হাতেও আঘাত লাগে।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সহকারী পাইলটের পরিকল্পনা ছিল উড়োজাহাজটি ছিনতাই করে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে আছড়ে ফেলা। ঘটনাটিকে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ২৯ বছর বয়সী সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্তের জন্য আমিরাতে নেওয়া হয়েছে।

