ককরোচ আন্দোলন দমনে কি আইনি কৌশল?
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। জামিনের আবেদন করেও মুক্তি পাননি তারা। জামিনদারদের নথিতে অসংগতি এবং নতুন করে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়িয়েছেন দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আগামী ২১ অক্টোবর তাদের আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
দুই নেতার জামিন না পাওয়ার ঘটনায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদ মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির অভিযোগ, জামিনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে দুই নেতাকে আটকে রাখা হচ্ছে। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের জেরেই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কড়াকড়ি চলছে বলে মনে করছে দলটি।
গত ১৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক করা হয় সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। অভিযোগ, তারা বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত যন্তর মন্তরের একটি বন্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পর তাদের প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার নতুন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দুই নেতার জামিনের আবেদন শুনানির জন্য ওঠে। তবে জামিনদারদের দেওয়া নথি গ্রহণ করা হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একজন জামিনদারের বন্ডে থাকা ছবির সঙ্গে তার আধার কার্ডের ছবির অমিল ছিল। এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, আরেক জামিনদার সৌরভ দাসের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ও তার ঠিকানা সম্পর্কে প্রাথমিক প্রশ্নেরও যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, দুই নেতার বিরুদ্ধে আগে শান্তি বজায় রাখার শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি এবং ভবিষ্যতে আবার শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। একই ধরনের কাজ আর করবেন না বলে তাদের দেওয়া আশ্বাস ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। বিকল্প জামিনদার উপস্থিত না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের মুক্তি মেলেনি।
তবে ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিবাদ দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ আগেও অভিযোগ করেছিলেন, দুই নেতার মুক্তি আটকে দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। দলটির বক্তব্য, ১০ অক্টোবরের পর তারা নতুন করে কোনো বিক্ষোভের ডাক দেননি এবং দুই নেতা পৃথকভাবে যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন।
এদিকে, মামলাটিকে ঘিরে আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামিনের শুনানির দায়িত্বে থাকা আগের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর শুনানির দায়িত্বে পরিবর্তন আসে।

