গাজাবাসীদের অন্য দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু, জানালেন নিজেই
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে অন্য কোনো দেশে পাঠানোর জন্য নিজেই সরাসরি উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোন কোন দেশ গাজাবাসীদের আশ্রয় দিতে পারে, তা নিয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণে রাখার ইচ্ছার কথাও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইলি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, গাজার প্রতিটি ফিলিস্তিনির অন্য কোথাও চলে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে প্রধান সমস্যা হলো—তাদের গ্রহণ করতে চায় এমন দেশ খুঁজে পাওয়া। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি নিজে বেশ জোরেশোরে কাজ করছেন এবং কিছু প্রাথমিক অগ্রগতি হয়েছে, যদিও সেগুলোর বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তবে কোনো দেশ ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে কিনা কিংবা কোন দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে—তার কোনো পরিষ্কার তথ্য নেতানিয়াহু দেননি। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়েছেন এবং সুযোগ পেলে অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষই সেখান থেকে চলে যাবে। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
একই সঙ্গে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দেন, গাজায় দখল করে রাখা ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এসব এলাকার সামরিক নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতেই থাকবে।
এর আগেও ইসরাইলের কট্টরপন্থী নেতারা ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু ফিলিস্তিন এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আরব দেশ এর তীব্র বিরোধিতা করে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘদিনের হামলায় গাজার ঘরবাড়ি ও হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গাজাবাসীদের অন্য দেশে পাঠানো হলে তা স্বেচ্ছায় যাওয়া হবে না, বরং ফিলিস্তিনিদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে চিরতরে তাড়িয়ে দেওয়ার শামিল হবে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

-6adb6ddff1c54.jpg)