লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে ইরান, সাজিয়েছে বিস্তারিত পরিকল্পনা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ এএম
হরমুজে থাকা ক্যাবলে হামলা চালাবে ইরান। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে হামলা চালালে পারস্য উপসাগরের সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলগুলোতে আঘাত হানার বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইরান। এমনকি হামলার পর কেবল মেরামতের কাজও বাধাগ্রস্ত করে যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবলগুলো ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আগেও সতর্ক করেছিলেন দেশটির কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান ও পদ্ধতি সম্পর্কে তারা বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। তবে তাদের একজন বলেছেন, হামলার পর কেবল মেরামত ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে, যাতে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন যোগাযোগসেবা দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানে হামলা হলে আর কোনো ‘লাল রেখা’ থাকবে না। সমুদ্রতলের কেবল থেকে শুরু করে গোপন সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের আগুন নিয়ে খেলা উচিত নয়। সমুদ্রতলের কেবলগুলোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানিও সতর্ক করে বলেন, ইরানের অবকাঠামোয় হামলা হলে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটে কী প্রভাব পড়বে?
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৯৯ শতাংশ সমুদ্রতলের কেবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
তবে টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির গবেষণা পরিচালক অ্যালান মলডিনের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ১ শতাংশেরও কম চলাচল করে। ফলে ওই অঞ্চলে হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে তুলনামূলক সীমিত থাকতে পারে।
তবে একাধিক কেবল বিচ্ছিন্ন হলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হওয়া, ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে বিকল্প সংযোগের সক্ষমতা এবং ইন্টারনেট ট্রাফিক অন্য পথে সরিয়ে নেওয়ার ওপর।

