হঠাৎ আমিরাতের সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাস আল খাইমাহের সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশী উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই দুই এলাকার সৈকত বন্ধের এক দিন পর শনিবার এ সিদ্ধান্ত জানায় কর্তৃপক্ষ।
রাস আল খাইমাহ পুলিশের সদর দপ্তরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আমিরাতটির পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
শুক্রবার ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্র উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় পরিবেশগত মূল্যায়ন করছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত উম্ম আল কুয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইউএইর উত্তর উপকূলে উম্ম আল কুয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন আল হামরিয়াহ সৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।
শারজাহ, আজমান ও উম্ম আল কুয়াইনের কয়েকটি এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধের কথা জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তবে ইউএইর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। শুক্রবারও উম্ম আল কুয়াইনে তীব্র দুর্গন্ধ ছিল।
এ ঘটনায় জড়িত ট্যাংকারটির নাম প্রকাশ করেনি ইউএই কর্তৃপক্ষ। কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত রাস আল খাইমাহর আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি ক্যাসিনো রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইউএইর প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর আশা করছে তারা।
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও মার্চে উইন জানায়, সাময়িক বিরতির পর রিসোর্টটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে।

