কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর নামে মার্কিন বিমানবন্দর

  অনলাইন ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

বক্সার মোহাম্মদ আলী। ছবি: দ্য হিল
বক্সার মোহাম্মদ আলী। ছবি: দ্য হিল

বিখ্যাত মুসলিম মুষ্ঠিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর নামে বিমানবন্দরের নাম রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেন্টাকিতে অবস্থিত লুইসভিল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নাম বদলে লুইসভিল মোহাম্মদ আলী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করা হচ্ছে।

আমেরিকান সংবাদ সংস্থা সিএনএনের বরাত দিয়ে ডন জানিয়েছে,দীর্ঘ এক বছর গবেষণা করে ওয়ার্কিং গ্রুপ এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করার পর লুইসভিল শহর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের এ ঘোষণা দিলো।

বিবিসি কর্তৃক শতাব্দির সেরা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনোনীত ক্রীড়াবিদ, মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলির প্রতি সম্মান জানিয়ে তার নামানুসারে এয়ারপোর্টের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলির ৭৭তম জন্মদিনের একদিন আগে তার নামে বিমানবন্দরের নামকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে লুইসভিল এয়ারপোর্ট অথিরিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান জিম উইলস বলেছেন, এ পদক্ষেপ বিশ্ববাসীর সামনে একটি নমুনা হয়ে থাকবে যে, এ মহান ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কত গর্ব।

কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী লুনি আলি এ সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মোহাম্মদ আলীর নামে বিমানবন্দরের নাম রাখায় বিশ্ববাসী এখন থেকে মোহাম্মদ আলীকে সবসময় স্মরণ রাখতে পারবে। ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার যে অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে, বিষয়টি লুইসভিল শহরের জন্যও গর্বের বিষয়।

ক্রীড়াক্ষেত্রে ও নিজের জন্মস্থানে মোহাম্মদ আলির অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ওই শহরের মেয়র গ্রেগ ফিশারও।

আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণার সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

এক নজরে মোহাম্মদ আলী

বিখ্যাত ও জনপ্রিয় মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা লুইসভিলে।

ইসলাম ধর্মালম্বী মোহাম্মদ আলী নিজ ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে গর্বের সঙ্গে কথা বলতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘এখন আমি যাই করি না কেন,আল্লাহ তায়ালাকে খুশিকে করার জন্য করি।’

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলাতে মোহাম্মদ আলী জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি আমেরিকান মুসলিমদের আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

বিদ্যুতের মতো গতি, অবিশ্বাস্য ফুটওয়ার্ক এবং অকল্পনীয় শারীরিক নমনীয়তায় কিংবদন্তি এই বক্সার মোট ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৫৬টিতেই জিতেছেন। ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৩৭টি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে নকআউট করে জিতেছেন। ক্রীড়া জীবনের শুরুর দিকেই কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী রিংয়ের ভেতরে ও বাইরে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

মোহাম্মদ আলী ১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। তার নামে পল্টনের বক্সিং স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়।

১৯৮০ সালে পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হন। ৩২ বছর এ রোগে ভোগার পর ২০১৬ সালের ৩ জুন ৭৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

সূত্র: সিএনএন, ডন উর্দু , কুরিয়ার জার্নাল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×