শ্রীলংকায় তাওহিদ জামায়াতের সদর দফতর ঘেরাও
Advertisement
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:৩৬ পিএম
শ্রীলংকায় তাওহিদ জামায়াতের সদর দফতর ঘেরাও। ছবি: গার্ডিয়ান
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শ্রীলংকায় ইস্টার সানডেতে কয়েকটি চার্চ ও হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত চরমপন্থী ইসলামি সংগঠন ন্যাশনাশ তাওহিদ জামায়াতের (এনটিজে) সদর দফতর ঘেরাও করেছে দেশটির পুলিশ।
সোমবার দেশটির কাত্তানকুদি শহরে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সের এক সাংবাদিকের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান এসব তথ্য জানায়।
এর আগে গত শনিবার জরুরি আইন জারি করে শ্রীলংকা সরকার ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াতসহ দুটি ইসলামি চরমপন্থী দলকে নিষিদ্ধ করেছে। পুলিশের ধারণা, ইস্টার সানডেতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাহরান হাশিম এর প্রতিষ্ঠাতা। ওই হামলায় ২৫৩ জন মানুষ নিহত হন। হামলাকারী হিসেবে ৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়। এই ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশ দুটি স্থানীয় ইসলামিক গোষ্ঠীকে দায়ী করছে। এর মধ্যে একটির প্রতিষ্ঠাতা জাহরান। কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, অপর গ্রুপের নাম জামায়াতুল মিল্লাতু ইব্রাহিম।
পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, দুই দিন আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জাহরানের বাবা ও দুই ভাই নিহত হয়েছেন।
সোমবার অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে জনগণের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে রোববার শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার জন্য জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করছেন।
এদিকে দেশটিতে অল্পসংখ্যক মুসলিম নারীরা মুখে নিকাব পরে। ইস্টার সানডেতে গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখা এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সোমবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মুসলিম নারীরা এখন থেকে আর বোরকা, নিকাব বা মুখ ঢেকে রাখার পোশাক পরে বাইরে বেরোতে পারবেন না। তবে মাথায় ওড়না বা হিজাব পরতে পারবেন।
এদিকে ইস্টার সানডের ওই হামলার পর থেকে দেশটির বহু মুসলমানকে বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বোরকাপরা বন্ধ করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২১ এপ্রিল গির্জা ও রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ ওই সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন।
