ছবিতে আসামে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়াদের জন্য নির্মিত ডিটেনশন ক্যাম্প
jugantor
ছবিতে আসামে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়াদের জন্য নির্মিত ডিটেনশন ক্যাম্প

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৬:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

আসামের নাগরিক নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের জন্য সেখানকার গোয়ালপাড়ায় প্রস্তত করা হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প। ছবি: জি নিউজ

ভারতের আসামের চূড়ান্ত নাগরিক(এনআরসি) তালিকায় ১৯ লাখ লোককে রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার তালিকাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

অসমীয়রা এখন ওয়েবসাইটে www.nrcassam.nic.in ঠিকানায় গিয়ে নিজেদের অবস্থা জানতে পারবেন।

গত ৩১ আগস্ট এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।

তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা মূলত অতি দরিদ্র এবং বেশিরভাগই মুসলমান। যদিও ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের আশঙ্কা, বাঙালি অনেক হিন্দুর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

সে ক্ষেত্রেও দেখা যাবে গরিব লোকজনই আসলে বাদ পড়েছে।

আইনি সাহায্য নিতে গড়ে প্রত্যেক ব্যক্তির খরচ পড়বে ৪০ হাজার ভারতীয় রুপির মতো। যদি ওই মামলা সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত যায়, তবে খরচ আরও বাড়বে।

দরিদ্র এ মানুষগুলো আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘোরার এবং মামলা লড়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে পাবে সেটাও বড় প্রশ্ন।

আসামের লেখিকা সঙ্গীতা বড়ুয়া পিশারতি বিবিসিকে বলেন, ‘যাদের নাম তালিকায় নেই তারা এরই মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। তার অন্যতম প্রধান কারণ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ।

তিনি বলেন, অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করছেন। ফলে তাদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে এটা ভেবেই অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

ডিটেনশন ক্যাম্পের প্রাচীর এতটাই উঁচু যে বাইরে চোখ যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া লাখ লাখ অসমীয় হয়ে যাবেন একেবারে ভিন্ন জগতের মানুষ। ছবি: জি নিউজ

গুয়াহাটি থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে মাটিয়া এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্প। প্রথম প্রাচীরের উচ্চতা ২০ ফুটের মতো। আর ছয় ফুটের বেড় তো রয়েছেই। ছবি: জি নিউজ

থাকছে আধুনিক সব বন্দোবস্ত। ১৫টি চারতলা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। যার মধ্যে দুটি হবে নারীদের জন্য। থাকবেন তিন হাজার লোক। ছবি: জি নিউজ

একটি ঘরে চার থেকে পাঁচজন লোক থাকবেন। শিশুদের নিয়ে থাকা নারীদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ছবি: জি নিউজ

প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকবে আড়াই হেক্টর জমি এলাকা। বাইরের প্রাচীর ২০ ফুট উঁচু, ভেতরের প্রাচীর ৬ ফুট উঁচু। থাকবে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। ছবি: জি নিউজ

ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকবে একটি হাসপাতাল, একটি অডিটোরিয়াম ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবার জন্য একটি রান্নাঘরও থাকছে। ছবি: জি নিউজ

গেল বছর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ছবি: জি নিউজ

ডিটেনশন ক্যাম্প প্রস্তুত করতে খরচ হবে ৪৬ কোটি টাকা। দায়িত্ব পেয়েছে আসাম পুলিশ হাউজিং কর্পোরেশন। ছবি: জি নিউজ

গত ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের নাম তালিকায় নেই,  নাগরিকত্ব প্রমাণে তারা হন্যে হয়ে ছুটছেন। ছবি: জি নিউজ

হাতে আছে মাত্র একশ ২০ দিন। এর মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে না পারলে ঠাঁই হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে। এক ভিন্ন জগতের বাসিন্দা হয়ে যাবেন তারা। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন পরিচিত পরিবেশ থেকে। ছবি: জি নিউজ

ছবিতে আসামে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়াদের জন্য নির্মিত ডিটেনশন ক্যাম্প

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আসামের নাগরিক নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের জন্য সেখানকার গোয়ালপাড়ায় প্রস্তত করা হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প। ছবি: জি নিউজ
আসামের নাগরিক নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়াদের জন্য সেখানকার গোয়ালপাড়ায় প্রস্তত করা হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প। ছবি: জি নিউজ

ভারতের আসামের চূড়ান্ত নাগরিক(এনআরসি) তালিকায় ১৯ লাখ লোককে রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার তালিকাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

অসমীয়রা এখন ওয়েবসাইটে www.nrcassam.nic.in ঠিকানায় গিয়ে নিজেদের অবস্থা জানতে পারবেন।

গত ৩১ আগস্ট এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। 

তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা মূলত অতি দরিদ্র এবং বেশিরভাগই মুসলমান। যদিও ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের আশঙ্কা, বাঙালি অনেক হিন্দুর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। 

সে ক্ষেত্রেও দেখা যাবে গরিব লোকজনই আসলে বাদ পড়েছে।

আইনি সাহায্য নিতে গড়ে প্রত্যেক ব্যক্তির খরচ পড়বে ৪০ হাজার ভারতীয় রুপির মতো। যদি ওই মামলা সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত যায়, তবে খরচ আরও বাড়বে।

দরিদ্র এ মানুষগুলো আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘোরার এবং মামলা লড়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে পাবে সেটাও বড় প্রশ্ন।

আসামের লেখিকা সঙ্গীতা বড়ুয়া পিশারতি বিবিসিকে বলেন, ‘যাদের নাম তালিকায় নেই তারা এরই মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। তার অন্যতম প্রধান কারণ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ। 

তিনি বলেন, অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করছেন। ফলে তাদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে এটা ভেবেই অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

ডিটেনশন ক্যাম্পের প্রাচীর এতটাই উঁচু যে বাইরে চোখ যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া লাখ লাখ অসমীয় হয়ে যাবেন একেবারে ভিন্ন জগতের মানুষ। ছবি: জি নিউজ

গুয়াহাটি থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে মাটিয়া এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্প। প্রথম প্রাচীরের উচ্চতা ২০ ফুটের মতো। আর ছয় ফুটের বেড় তো রয়েছেই। ছবি: জি নিউজ

থাকছে আধুনিক সব বন্দোবস্ত। ১৫টি চারতলা বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। যার মধ্যে দুটি হবে নারীদের জন্য। থাকবেন তিন হাজার লোক। ছবি: জি নিউজ

একটি ঘরে চার থেকে পাঁচজন লোক থাকবেন। শিশুদের নিয়ে থাকা নারীদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ছবি: জি নিউজ

প্রাচীর দিয়ে ঘেরা থাকবে আড়াই হেক্টর জমি এলাকা। বাইরের প্রাচীর ২০ ফুট উঁচু, ভেতরের প্রাচীর ৬ ফুট উঁচু। থাকবে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। ছবি: জি নিউজ

ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকবে একটি হাসপাতাল, একটি অডিটোরিয়াম ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সবার জন্য একটি রান্নাঘরও থাকছে। ছবি: জি নিউজ

গেল বছর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ছবি: জি নিউজ

ডিটেনশন ক্যাম্প প্রস্তুত করতে খরচ হবে ৪৬ কোটি টাকা। দায়িত্ব পেয়েছে আসাম পুলিশ হাউজিং কর্পোরেশন। ছবি: জি নিউজ

গত ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের নাম তালিকায় নেই,  নাগরিকত্ব প্রমাণে তারা হন্যে হয়ে ছুটছেন। ছবি: জি নিউজ

হাতে আছে মাত্র একশ ২০ দিন। এর মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে না পারলে ঠাঁই হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে। এক ভিন্ন জগতের বাসিন্দা হয়ে যাবেন তারা। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন পরিচিত পরিবেশ থেকে। ছবি: জি নিউজ

 

ঘটনাপ্রবাহ : আসামে বাঙালি সংকট

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০