অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে ভয়ংকর যত দুর্ঘটনা
jugantor
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে ভয়ংকর যত দুর্ঘটনা

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৬ আগস্ট ২০২০, ২১:০৬:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ভিডিও দেখে অনেকেই বলেছেন- তারা জীবনে কখনও এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ দেখেননি। বিস্ফোরণটি ঘটেছিল একটি গুদামে, যেখানে বিপুল পরিমাণে একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ মজুত করে রাখা ছিল, যারা নাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রথম একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল যা থেকে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠছিল। মানুষ তা মুঠোফোনে ধারণ করতে শুরু করে। আর ঠিক তখনই তাদের চোখের সামনে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। এতে প্রথম সৃষ্টি হয় একটি বিশাল আগুনের গোলা, তার পর বাতাসের ঝাপটা তৈরি হয় ব্যাঙের ছাতার মতো আকারের পানি ও বাষ্পের সাদা মেঘ, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা মিলিয়ে যায়। তারপরই দেখা যায় পাক খেয়ে উঠছে লাল রঙের ধোঁয়ার কুণ্ডলি। বিবিসি বলছে, পুরো ব্যাপারটা ঘটে মাত্র চার সেকেন্ডের মধ্যে।

লাল ধোঁয়া থেকেই বোঝা যায়- সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এটি এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা প্রধানত সার উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আরও বহু শিল্পকারখানায় এটা কাজে লাগে। খনিতে যে বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয় তারও অন্যতম একটি উপাদান এটি। কিন্তু অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিজে কোনো বিস্ফোরক পদার্থ নয়, তবে বিশেষ কিছু অবস্থায় তা বিস্ফোরকে পরিণত হতে পারে- বলছেন সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলিপ ইনগ্রাম। একে বলা যায় ‘অক্সিডাইজার’ অর্থাৎ যা আগুনে আরও অক্সিজেন টেনে আনে এবং আগুন জ্বলতে সাহায্য করে।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক গ্যাব্রিয়েল ডা সিলভা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে আগুন ধরানো বা একটা বিস্ফোরণ ঘটার মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। তবে ডা সিলভা বলছিলেন, তার ধারণা কোনোভাবে এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দূষিত হয়ে গেছে। হয়তো তেল বা অন্য কিছুর সংস্পর্শে আসে এবং সেটাই এ বিস্ফোরণের কারণ। আগুনের সংস্পর্শে এলে এটি অত্যন্ত সক্রিয় বিস্ফোরক হিসেবে কাজ করে। আর বিস্ফোরিত হলে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়।

আগেও ঘটেছে এমন বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস শহরে ১৯৪৭ সালের ১৬ এপ্রিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে ৫০০ জন নিহত হন। আহত হয় চার হাজার লোক। টেক্সাস সিটি বন্দরে একটি জাহাজ থেকে দুই হাজার ৩০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খালাস করার সময় ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে পুরো ডক এলাকা ধ্বংস হয়। আশপাশে থাকা অন্য কয়েকটি জাহাজে কয়েকদিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। এমনকি আকাশে উড়ন্ত দুটি ছোট বিমানও ধ্বংস হয়। ওই বিস্ফোরণের ঝাপটায় সাগরে ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। তাতে অনেক বাড়ি ধ্বংস হয়ে দুই হাজার লোক গৃহহীন হয়।

চীনের তিয়ানজিন শহরে এক ওয়্যারহাউজে ২০১৫ সালের আগস্টে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ১৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হন। সেখানে একাধিক ওয়্যারহাউজে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছাড়াও পটাশিয়াম নাইট্রেট এবং সোডিয়াম সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ জমা রাখা ছিল।

চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য- অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার কারণে প্রথমে নাইট্রোসেলুলোজ নামে একটি দাহ্য রাসায়নিক পদার্থে আপনা থেকেই আগুন ধরে যায়। তা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের গুদামে এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ঘটে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ভুলবশত পানি দিয়ে সেই রাসায়নিক পদার্থের আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে ভয়ংকর যত দুর্ঘটনা

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৬ আগস্ট ২০২০, ০৯:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণ। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ভিডিও দেখে অনেকেই বলেছেন- তারা জীবনে কখনও এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ দেখেননি। বিস্ফোরণটি ঘটেছিল একটি গুদামে, যেখানে বিপুল পরিমাণে একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ মজুত করে রাখা ছিল, যারা নাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। 

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রথম একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল যা থেকে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠছিল। মানুষ তা মুঠোফোনে ধারণ করতে শুরু করে। আর ঠিক তখনই তাদের চোখের সামনে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ। এতে প্রথম সৃষ্টি হয় একটি বিশাল আগুনের গোলা, তার পর বাতাসের ঝাপটা তৈরি হয় ব্যাঙের ছাতার মতো আকারের পানি ও বাষ্পের সাদা মেঘ, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা মিলিয়ে যায়। তারপরই দেখা যায় পাক খেয়ে উঠছে লাল রঙের ধোঁয়ার কুণ্ডলি। বিবিসি বলছে, পুরো ব্যাপারটা ঘটে মাত্র চার সেকেন্ডের মধ্যে।

লাল ধোঁয়া থেকেই বোঝা যায়- সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এটি এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা প্রধানত সার উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আরও বহু শিল্পকারখানায় এটা কাজে লাগে। খনিতে যে বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয় তারও অন্যতম একটি উপাদান এটি। কিন্তু অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিজে কোনো বিস্ফোরক পদার্থ নয়, তবে বিশেষ কিছু অবস্থায় তা বিস্ফোরকে পরিণত হতে পারে- বলছেন সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলিপ ইনগ্রাম। একে বলা যায় ‘অক্সিডাইজার’ অর্থাৎ যা আগুনে আরও অক্সিজেন টেনে আনে এবং আগুন জ্বলতে সাহায্য করে। 

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক গ্যাব্রিয়েল ডা সিলভা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে আগুন ধরানো বা একটা বিস্ফোরণ ঘটার মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন। তবে ডা সিলভা বলছিলেন, তার ধারণা কোনোভাবে এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দূষিত হয়ে গেছে। হয়তো তেল বা অন্য কিছুর সংস্পর্শে আসে এবং সেটাই এ বিস্ফোরণের কারণ। আগুনের সংস্পর্শে এলে এটি অত্যন্ত সক্রিয় বিস্ফোরক হিসেবে কাজ করে। আর বিস্ফোরিত হলে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়।

আগেও ঘটেছে এমন বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস শহরে ১৯৪৭ সালের ১৬ এপ্রিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে ৫০০ জন নিহত হন। আহত হয় চার হাজার লোক। টেক্সাস সিটি বন্দরে একটি জাহাজ থেকে দুই হাজার ৩০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খালাস করার সময় ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে পুরো ডক এলাকা ধ্বংস হয়। আশপাশে থাকা অন্য কয়েকটি জাহাজে কয়েকদিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। এমনকি আকাশে উড়ন্ত দুটি ছোট বিমানও ধ্বংস হয়। ওই বিস্ফোরণের ঝাপটায় সাগরে ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। তাতে অনেক বাড়ি ধ্বংস হয়ে দুই হাজার লোক গৃহহীন হয়।  

চীনের তিয়ানজিন শহরে এক ওয়্যারহাউজে ২০১৫ সালের আগস্টে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে ১৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হন। সেখানে একাধিক ওয়্যারহাউজে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছাড়াও পটাশিয়াম নাইট্রেট এবং সোডিয়াম সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ জমা রাখা ছিল।

চীনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য- অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার কারণে প্রথমে নাইট্রোসেলুলোজ নামে একটি দাহ্য রাসায়নিক পদার্থে আপনা থেকেই আগুন ধরে যায়। তা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের গুদামে এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ঘটে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ভুলবশত পানি দিয়ে সেই রাসায়নিক পদার্থের আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : লেবাননে বিস্ফোরণ

আরও খবর