খাবার রফতানির আড়ালে মিয়ানমারকে কী দিচ্ছে চীন?
jugantor
খাবার রফতানির আড়ালে মিয়ানমারকে কী দিচ্ছে চীন?

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৪:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারকে নিয়ে এশিয়াজুড়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের বন্ধুপ্রতীম চীন কী ভূমিকা নিচ্ছে তার প্রতি অনেকের কৌতুহল ছিল।
এবার এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য মান্দারিন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতি রাতে গড়ে অনিবন্ধিত পাঁচটি ফ্লাইট মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে চীনের কুনমিংয়ের মধ্যে চলছে। গভীর রাতেচলছে এসবগোপন ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের বিষয় গোপন রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জান্তা সরকার। চীন সরকার ও মিয়ানমার এয়ারওয়েজের দাবি-এসব ফ্লাইটে সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে চরম মাত্রার গোপনীয়তা রক্ষার কারণে ধারণা করা হচ্ছে বিক্ষোভ দমন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনা-পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এসব ফ্লাইটে চীনা বিশেষজ্ঞ ও অস্ত্র পরিবহণ করা হচ্ছে।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে। এখনো ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে হাতেগোনা কিছু ফ্লাইট দেখা যায়। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে তিনটি প্লেন গড়ে পাঁচটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে কুনমিংয়ে। এর মধ্যে দুটি প্লেন মিয়ানমার এয়ারওয়েজের রঙের। অন্যটির রং স্পষ্ট নয়। ভালো সার্ভিস দেওয়ার জন্য এগুলো প্রাইভেট ফার্ম থেকে লিজ নেওয়া হয়েছে।

গোপনে পরিচালনা করার কারণে কে বা কারা এসব ফ্লাইট পরিচালনার পেছনে আছে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন আইন লঙ্ঘন করে ফ্লাইটগুলোর ট্রান্সপন্ডার বা আন্তর্জাতিক সিগন্যাল পদ্ধতি বন্ধ রাখা হচ্ছে। দ্য মান্দারিন বিষয়টি জানতে পেরেছে পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা গেছে, কিছু ফ্লাইটের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবার পরে কিছু ফ্লাইটেরটা উš§ুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি কুনমিং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই ফ্লাইটগুলোর অবতরণের অনলাইন নিবন্ধনও রাখছে না। ডাটাবেস, ফ্লাইট নম্বর, কল নিদর্শন, এমনকি গন্তব্য- কোনোকিছুই প্রকাশ করা হচ্ছে না। সিডিএম বা সেনা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়া মিয়ানমার এয়ারওয়েজের কর্মীদের পোস্ট করা ফটো থেকে বিমানের রং সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্যাটেলাইট ইঞ্জিন থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্য মান্দারিন ওইফ্লাইটগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে (নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমান এমএইচ৩৭০ এর তদন্তে ব্যবহৃত পদ্ধতি মতো)। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে গোপনে এসব ফ্লাইট পরিচালনার দুটি সম্ভাব্য কারণ বেরিয়ে আসে। এক. এসব ফ্লাইটে করে চীনা সেনা ও সাইবার বিশেষজ্ঞ আনা হতে পারে। ইন্টারনেট ও তথ্যে প্রবেশ এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাতমাদো নামে পরিচিত সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এদের আনা হচ্ছে। দুই. তাতমাদোর অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য এসব ফ্লাইটে চীন থেকে গোপনে অস্ত্র আনা হচ্ছে।

মিয়ানমার নিয়ে চীন-রাশিয়ার ভূমিকা কী?

চীন বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এটি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা। এ ছাড়া চীনের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের জন্য মিয়ানমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীন ছাড়া রাশিয়া থেকেও অস্ত্র সংগ্রহ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

প্রশ্নের মুখে পড়া প্লেন তিনটি ভিয়েতনামে সাবেক রুশঘাঁটি ক্যাম রানহ বিমানঘাঁটিতেও প্রবেশ করেছে। ওই ঘাঁটিতে এখনো রাশিয়ার সহজ প্রবেশাধিকার আছে। অভ্যুত্থান ঘটানোর কয়েক সপ্তাহ আগে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং রুশ প্রতিরক্ষমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

খাবার রফতানির আড়ালে মিয়ানমারকে কী দিচ্ছে চীন?

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারকে নিয়ে এশিয়াজুড়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের বন্ধুপ্রতীম চীন কী ভূমিকা নিচ্ছে তার প্রতি অনেকের কৌতুহল ছিল। 
এবার এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য মান্দারিন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতি রাতে গড়ে অনিবন্ধিত পাঁচটি ফ্লাইট মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে চীনের কুনমিংয়ের মধ্যে চলছে। গভীর রাতে চলছে এসব গোপন ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের বিষয় গোপন রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জান্তা সরকার। চীন সরকার ও মিয়ানমার এয়ারওয়েজের দাবি-এসব ফ্লাইটে সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে চরম মাত্রার গোপনীয়তা রক্ষার কারণে ধারণা করা হচ্ছে বিক্ষোভ দমন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনা-পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এসব ফ্লাইটে চীনা বিশেষজ্ঞ ও অস্ত্র পরিবহণ করা হচ্ছে।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তা ক্ষমতা নেওয়ার পর সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে। এখনো ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে হাতেগোনা কিছু ফ্লাইট দেখা যায়। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে তিনটি প্লেন গড়ে পাঁচটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে কুনমিংয়ে। এর মধ্যে দুটি প্লেন মিয়ানমার এয়ারওয়েজের রঙের। অন্যটির রং স্পষ্ট নয়। ভালো সার্ভিস দেওয়ার জন্য এগুলো প্রাইভেট ফার্ম থেকে লিজ নেওয়া হয়েছে। 

গোপনে পরিচালনা করার কারণে কে বা কারা এসব ফ্লাইট পরিচালনার পেছনে আছে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন আইন লঙ্ঘন করে ফ্লাইটগুলোর ট্রান্সপন্ডার বা আন্তর্জাতিক সিগন্যাল পদ্ধতি বন্ধ রাখা হচ্ছে। দ্য মান্দারিন বিষয়টি জানতে পেরেছে পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা গেছে, কিছু ফ্লাইটের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবার পরে কিছু ফ্লাইটেরটা উš§ুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি কুনমিং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই ফ্লাইটগুলোর অবতরণের অনলাইন নিবন্ধনও রাখছে না। ডাটাবেস, ফ্লাইট নম্বর, কল নিদর্শন, এমনকি গন্তব্য- কোনোকিছুই প্রকাশ করা হচ্ছে না। সিডিএম বা সেনা প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়া মিয়ানমার এয়ারওয়েজের কর্মীদের পোস্ট করা ফটো থেকে বিমানের রং সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্যাটেলাইট ইঞ্জিন থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্য মান্দারিন ওই ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে (নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমান এমএইচ৩৭০ এর তদন্তে ব্যবহৃত পদ্ধতি মতো)। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে গোপনে এসব ফ্লাইট পরিচালনার দুটি সম্ভাব্য কারণ বেরিয়ে আসে। এক. এসব ফ্লাইটে করে চীনা সেনা ও সাইবার বিশেষজ্ঞ আনা হতে পারে। ইন্টারনেট ও তথ্যে প্রবেশ এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাতমাদো নামে পরিচিত সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এদের আনা হচ্ছে। দুই. তাতমাদোর অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য এসব ফ্লাইটে চীন থেকে গোপনে অস্ত্র আনা হচ্ছে।  

মিয়ানমার নিয়ে চীন-রাশিয়ার ভূমিকা কী?

চীন বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। এটি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা। এ ছাড়া চীনের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের জন্য মিয়ানমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীন ছাড়া রাশিয়া থেকেও অস্ত্র সংগ্রহ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

প্রশ্নের মুখে পড়া প্লেন তিনটি ভিয়েতনামে সাবেক রুশঘাঁটি ক্যাম রানহ বিমানঘাঁটিতেও প্রবেশ করেছে। ওই ঘাঁটিতে এখনো রাশিয়ার সহজ প্রবেশাধিকার আছে। অভ্যুত্থান ঘটানোর কয়েক সপ্তাহ আগে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং রুশ প্রতিরক্ষমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অং সান সু চি আটক