ইমরান ভণ্ড, তার উচিত জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া: সাবেক স্ত্রী
jugantor
ইমরান ভণ্ড, তার উচিত জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া: সাবেক স্ত্রী

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৯ এপ্রিল ২০২১, ১৪:১৫:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ভন্ড বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্ত্রী। তিনি ইমরানকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবিসির সাবেক সংবাদ পাঠিকা রেহাম খান ইমরান খানের মন্তব্যের বিষয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলকে বলেন, ইমরানকে ভণ্ড, জোচ্চোর। সেই সঙ্গে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইমরানকে ‘প্রমাণহীন ক্ষমা চাওয়া ধর্ষক’ বলেও মন্তব্য করেন।
ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠ কাঁপানো ইমরানকে বিয়ে করা রেহাম খান জানান, নারী ইস্যুতে ইমরান সবসময়েই ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি সুচতুরভাবে নারীসঙ্গ দিয়েছেন।

রেহাম আরও জানান, খান তার পারিবারিক পদবি। ইমরান খানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তার নামের শেষে খান যোগ হয়নি। রেহামের মূল্যায়ন ইমরান খান আদর্শ পুরুষ নন। স্বামী হিসেবে তিনি ব্যর্থ।
রেহাম খান ক্ষোভের বশে এসব বলেছেন ইমরান খানের অফিসের এই দাবি প্রসঙ্গে সাবেক স্ত্রী বলেন, তার এসব মন্তব্য নতুন নয়। তাদের উচিত এ ধরনের কথাবার্তার জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া।

তিনি ধর্ষণ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, এটি (ইমরানের মন্তব্য) ধর্ষকের ক্ষমা চাওয়ার মতোই বিষয়।
‘ইমরান বারবার এসব বলছেন। তার উচিত ক্ষমা চাওয়া। সেই সঙ্গে কীভাবে কথা বলা উচিত সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন তিনি। তার অনেক কিছুই শেখার বাকি আছে’-যোগ করেন রেহাম খান।
ইমরান খান রক্ষণশীল পাকিস্তানে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা করতে ধর্ম বিশেষ করে ইসলামকে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রেহাম খানের। অথচ তিনি দুই দুটি বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন।

সম্প্রতি পাকিস্তানের টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার জন্য অশ্লীলতা ও নারীদের খোলামেলা পোশাককে দায়ী করেন।
কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ওই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নারীদের শালীন পোশাক পরার পরামর্শও দেন। তিনি বলেন, পর্দা করার সারবস্তুই হলো— আকর্ষণ করা থেকে বিরত থাকা। নিজেকে বিরত রাখার ইচ্ছাশক্তি সবার নেই। সবাইকে পর্দা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে সমাজে অশ্লীলতার প্রচলন আছে, সেখানে তার পরিণতিও রয়েছে।

ইমরান খানের ওই মন্তব্যের পর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে— প্রধানমন্ত্রী ‘ধর্ষণ কে ক্ষমার চোখে’ দেখতে চাচ্ছেন। নিজের মন্তব্যের জন্য তারা ইমরান খানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন এবং এ দাবির পক্ষে কয়েকশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪-১৫ সালে ক্রিকেটের প্লেবয়-কাম পাকিস্তানের রাজনীতিক ইমরান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রেহাম। তাদের দাম্পত্য টিকে ছিল মাত্র ১০ মাস। ওই সম্পর্ক নিয়ে তিনি একটি টুইটের জবাব দিয়েছেন। টুইটে তাদের দাম্পত্য জীবন এবং ব্যক্তিত্বের সংঘাত নিয়ে কৌতুক করা হয়েছিল।
এর জবাবে রেহাম খান লিখেছেন— আপনারা কেন এটা ভাবছেন যে আমাদের সেই সম্পর্কের রসায়ন ঠিকমতো কাজ করছিল না?
বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের অন্যতম ইমরান খান। তিনি দুবার বিচ্ছেদপ্রাপ্ত। তিনি স্বল্পবসনা নারীদের পার্টিতে নতুন নন। তিনি যখন ব্যাচেলর তখন লন্ডনের ভিআইপি নাইটক্লাবে অংশ নিয়েছেন। সেখানে পার্টি করেছেন ফ্যাশন গুরু বলে পরিচিত সুসানাহ কনস্টানটিনের সঙ্গে। ১৯৯৫ সালে জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে তিনি তার সঙ্গেই চুটিয়ে পার্টি করতেন। পরে পাকিস্তানি সংস্কৃতির সঙ্গে বড় রকম জটিলতার কারণে ৯ বছর পর জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে তার বিবাহ ভেঙে যায়। কারণ জেমিমা গোল্ডস্মিথ ছিলেন ইহুদি পরিবারের। এর পর দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খানের সঙ্গেও তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তিনি ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির (পিটিআই) এক প্রকাশ্য মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এ জন্য তার ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল। এ সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রেহাম খানের ব্যাপক সমালোচনা করে। তারা বলেন, রেহাম খান তার স্বামীর খ্যাতির সূত্র ধরে নিজের ব্যক্তিগত সুনাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
ইমরান খানের তৃতীয় ও শেষ স্ত্রী বুশরা। তাকে রক্ষণশীল এক অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন ২০১৮ সালে। ওই বিয়েতে তাকে দেখা যায় চোখমুখ পুরোপুরি ঢাকা অবস্থায়। ইসলামিক রীতি মেনে তিনি এমনটি করেছিলেন।

ইমরান ভণ্ড, তার উচিত জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া: সাবেক স্ত্রী

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৯ এপ্রিল ২০২১, ০২:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ভন্ড বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্ত্রী।  তিনি ইমরানকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  

বিবিসির সাবেক সংবাদ পাঠিকা রেহাম খান ইমরান খানের মন্তব্যের বিষয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলকে বলেন, ইমরানকে ভণ্ড, জোচ্চোর। সেই সঙ্গে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি ইমরানকে ‘প্রমাণহীন ক্ষমা চাওয়া ধর্ষক’ বলেও মন্তব্য করেন। 
ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠ কাঁপানো ইমরানকে বিয়ে করা রেহাম খান জানান, নারী ইস্যুতে ইমরান সবসময়েই ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি সুচতুরভাবে নারীসঙ্গ দিয়েছেন।  

রেহাম আরও জানান, খান তার পারিবারিক পদবি। ইমরান খানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তার নামের শেষে খান যোগ হয়নি।  রেহামের মূল্যায়ন ইমরান খান আদর্শ পুরুষ নন।  স্বামী হিসেবে তিনি ব্যর্থ। 
রেহাম খান ক্ষোভের বশে এসব বলেছেন ইমরান খানের অফিসের এই দাবি প্রসঙ্গে সাবেক স্ত্রী বলেন, তার এসব মন্তব্য নতুন নয়। তাদের উচিত এ ধরনের কথাবার্তার জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া।

তিনি ধর্ষণ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, এটি (ইমরানের মন্তব্য) ধর্ষকের ক্ষমা চাওয়ার মতোই বিষয়। 
‘ইমরান বারবার এসব বলছেন। তার উচিত ক্ষমা চাওয়া। সেই সঙ্গে কীভাবে কথা বলা উচিত সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন তিনি। তার অনেক কিছুই শেখার বাকি আছে’-যোগ করেন রেহাম খান।
ইমরান খান রক্ষণশীল পাকিস্তানে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা করতে ধর্ম বিশেষ করে ইসলামকে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রেহাম খানের। অথচ তিনি দুই দুটি বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন।

সম্প্রতি পাকিস্তানের টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার জন্য অশ্লীলতা ও নারীদের খোলামেলা পোশাককে দায়ী করেন। 
কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ওই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নারীদের শালীন পোশাক পরার পরামর্শও দেন। তিনি বলেন, পর্দা করার সারবস্তুই হলো— আকর্ষণ করা থেকে বিরত থাকা। নিজেকে বিরত রাখার ইচ্ছাশক্তি সবার নেই। সবাইকে পর্দা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে সমাজে অশ্লীলতার প্রচলন আছে, সেখানে তার পরিণতিও রয়েছে।

ইমরান খানের ওই মন্তব্যের পর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন। 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে— প্রধানমন্ত্রী ‘ধর্ষণ কে ক্ষমার চোখে’ দেখতে চাচ্ছেন। নিজের মন্তব্যের জন্য তারা ইমরান খানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন এবং এ দাবির পক্ষে কয়েকশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪-১৫ সালে ক্রিকেটের প্লেবয়-কাম পাকিস্তানের রাজনীতিক ইমরান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রেহাম। তাদের দাম্পত্য টিকে ছিল মাত্র ১০ মাস। ওই সম্পর্ক নিয়ে তিনি একটি টুইটের জবাব দিয়েছেন। টুইটে তাদের দাম্পত্য জীবন এবং ব্যক্তিত্বের সংঘাত নিয়ে কৌতুক করা হয়েছিল।
এর জবাবে রেহাম খান লিখেছেন— আপনারা কেন এটা ভাবছেন যে আমাদের সেই সম্পর্কের রসায়ন ঠিকমতো কাজ করছিল না?
বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের অন্যতম ইমরান খান। তিনি দুবার বিচ্ছেদপ্রাপ্ত। তিনি স্বল্পবসনা নারীদের পার্টিতে নতুন নন। তিনি যখন ব্যাচেলর তখন লন্ডনের ভিআইপি নাইটক্লাবে অংশ নিয়েছেন। সেখানে পার্টি করেছেন ফ্যাশন গুরু বলে পরিচিত সুসানাহ কনস্টানটিনের সঙ্গে। ১৯৯৫ সালে জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে তিনি তার সঙ্গেই চুটিয়ে পার্টি করতেন। পরে পাকিস্তানি সংস্কৃতির সঙ্গে বড় রকম জটিলতার কারণে ৯ বছর পর জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে তার বিবাহ ভেঙে যায়। কারণ জেমিমা গোল্ডস্মিথ ছিলেন ইহুদি পরিবারের। এর পর দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খানের সঙ্গেও তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তিনি ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির (পিটিআই) এক প্রকাশ্য মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এ জন্য তার ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল। এ সময় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রেহাম খানের ব্যাপক সমালোচনা করে। তারা বলেন, রেহাম খান তার স্বামীর খ্যাতির সূত্র ধরে নিজের ব্যক্তিগত সুনাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
ইমরান খানের তৃতীয় ও শেষ স্ত্রী বুশরা। তাকে রক্ষণশীল এক অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন ২০১৮ সালে। ওই বিয়েতে তাকে দেখা যায় চোখমুখ পুরোপুরি ঢাকা অবস্থায়। ইসলামিক রীতি মেনে তিনি এমনটি করেছিলেন। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন