ইরানে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি ইসরাইলের
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৫, ০৯:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর-পূর্ব দিকে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। আর এই হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না দেশটি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ওপর এই হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন- যত দিন না পর্যন্ত ইসরাইলের অস্তিত্ব ইরানের হুমকির কারণ হচ্ছে।
শুক্রবার নেতানিয়াহু এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরাইল ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য ইরানের হুমকিকে প্রতিহত করার জন্য একটি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই হুমকি দূর করতে যত দিন সময় লাগবে তত দিন এই অভিযান চলবে।’
এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা ‘রাইজিং লায়ন’ নামে একটি পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযানে ইরানে আঘাত হেনেছে। টাইমস অফ ইসরাইলের বরাতে জানা গেছে, এই হামলায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইসরাইলের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এই হামলাটি উচ্চমানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে এবং এর মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। দুই ডজনেরও বেশি জেট বিমানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযান ছিল নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট।’
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন, ‘এই হামলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করা। যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ এই অভিযান অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না আমরা মিশনটি সম্পন্ন করি।’
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল নিজের ভূখণ্ডেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্রের দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সমাবেশ এবং কর্মক্ষেত্রের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে-প্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সমস্ত অঞ্চলকে পূর্ণ কার্যক্রম স্তর থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম স্তরে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে, ইরানে ইসরাইলি হামলার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে তেহরানের প্রধান বিমানবন্দর ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তবে বিমানবন্দরটি সরাসরি কোনো ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরাইলের এই হামলা একদিকে যেমন তাদের নিরাপত্তার অবস্থান শক্তিশালী করেছে, তেমনি ইরানকে প্রতিশোধে উসকে দিচ্ছে। ফলে পরবর্তী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
