Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

চোখ ধাঁধানো অস্ত্রের প্রদর্শনী চীনের, যে সতর্কবার্তা দিলেন শি জিনপিং

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৪২ পিএম

চোখ ধাঁধানো অস্ত্রের প্রদর্শনী চীনের, যে সতর্কবার্তা দিলেন শি জিনপিং

Advertisement

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে জয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনে চীন ঐতিহাসিক তিয়েন আনমেন স্কোয়ারে এক বিশাল কুচকাওয়াজের আয়োজন করে। এ কুচকাওয়াজে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।

কুচকাওয়াজের আগে দেওয়া বক্তব্যে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমাদের থামানো যাবে না এবং আমরা কখনোই বলপ্রয়োগকারী শক্তির দ্বারা ভীতি হব না।’

এই কুচকাওয়াজে চীনা প্রেসিডেন্ট শান্তির বার্তা দিয়ে নিয়মভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থার কথা বলেন।

একই সঙ্গে চীন এই কুচকাওয়াজে তার সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার অনেকটাই তুলে ধরেছে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) তিয়েন আনমেন স্কোয়ারে যে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়, তাতে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়েছে নতুন ধরনের তরল জ্বালানিচালিত আন্তঃমহাদেশীয় কৌশলগত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ডিএফ-৫ সি।

চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে এক বিশেষজ্ঞ জানান, এ ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক পাল্লা ২০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করার সক্ষমতা ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদের দিক থেকে এর বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

কুচকাওয়াজে বিভিন্ন ধরনের মনুষ্যবিহীন স্থলযানও প্রদর্শিত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকেরা বলেছেন, প্রদর্শিত মনুষ্যবিহীন স্থলযানগুলো ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে কীভাবে মনুষ্যবিহীন প্রযুক্তি দলগত যুদ্ধ ইউনিটকে শক্তিশালী করতে পারে, তারই চিত্র তুলে ধরেছে। বিশেষ যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে এগুলোর বিশেষ সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে—জটিল অভিযান যেমন উভচর নৌ-অবতরণ কিংবা নগরযুদ্ধে মানববিহীন স্থলযান অত্যন্ত কার্যকরভাবে সহায়তা দিতে পারে।

স্থলভিত্তিক মনুষ্যবিহীন যুদ্ধাস্ত্রের প্রদর্শনীতে ছিল গোয়েন্দাগিরি ও হামলা চালানোর যান, মাইন অপসারণ ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ সরঞ্জাম এবং সহায়তাকারী যান। দূর নিয়ন্ত্রণ, স্বয়ংক্রিয় চলাচল এবং নমনীয় বিন্যাসের কারণে এগুলোর বিশেষ সুবিধা রয়েছে। যা মানুষ-যন্ত্র সমন্বিত স্থলযুদ্ধে এক নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

এ ছাড়া, এই কুচকাওয়াজে নানা ধরনের ড্রোন বিধ্বংসী সরঞ্জামও প্রদর্শন করা হয়। চীনা সামরিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ড্রোন বিধ্বংসী সরঞ্জামের তিনটি শাখাকে পদ্ধতিগতভাবে গড়ে তোলা এবং সেগুলোর সমন্বিত প্রয়োগ ড্রোন বিধ্বংসী অভিযানে দক্ষতা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। কুচকাওয়াজে ডিরেক্টেড এনার্জি প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন বিধ্বংসী অস্ত্রের এই প্রদর্শন প্রমাণ করে, চীনের নতুন অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি এখন বিশ্বের অগ্রভাগে।

কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত অ্যান্টি-ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান ব্যবস্থা, উচ্চশক্তির লেজার অস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রকে বিশেষজ্ঞরা শক্তিশালী এক ‘আইরন ট্রায়াড’ বা ‘লৌহ ত্রিভুজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এগুলো ড্রোনকে ‘সফট কিল’ তথা নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি ‘হার্ড ডেস্ট্রয়’ বা ধ্বংসও করতে সক্ষম।

এর বাইরে, ছয় ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গঠিত এক ধরনের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্রদর্শিত হয়েছে। এক সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বহুমুখী ও বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্রগুলোকে সংগঠিত ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করা চীনের জন্য বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এর মানে হলো—চীন এখন বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যার কাছে সম্পূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিয়ানানমেন স্কোয়ারে চীন এইচকিউ-১১, এইচকিউ-২০, এইচকিউ-২২ এ, এইচকিউ-৯ সি, এইচকিউ-১৯ এবং এইচকিউ-২৯—এই ছয় ধরনের অ্যান্টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করেছে। এগুলো দীর্ঘ, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা দিতে সক্ষম।

আজ জাপানের বিরুদ্ধে চীনের যুদ্ধ জয়ের ৮০ তম বার্ষিকী উদযাপনের সামরিক প্যারেডে প্রথমবারের মতো চার ধরনের নতুন ওয়াই জে সিরিজের জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শিত হয়। সামরিক বিশেষজ্ঞরা গ্লোবাল টাইমসকে জানান, চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে তিনটি হাইপারসনিক। ওয়াইজে-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক ওয়াইজে-১৯, ওয়াইজে-১৭ ও ওয়াইজে-২০ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরী থেকে পরিচালিত যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনসহ একাধিক প্ল্যাটফর্মে বহনযোগ্য।

প্যারেডে একাধিক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের মনুষ্যবিহীন আকাশযান আত্মপ্রকাশ করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রদর্শিত কিছু মনুষ্যবিহীন আকাশযান কেবল নতুন রূপের নয়, বরং নতুন ধারণাকে অবলম্বন করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো বর্তমান আকাশ যুদ্ধের পরিস্থিতিকে পাল্টে দিতে পারে এবং ভবিষ্যতের আকাশ যুদ্ধকে গভীরভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম।

চীনের পিপলস আর্মির যুদ্ধজাহাজগুলোর বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ মোকাবেলার সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য প্যারেডে চার প্রকার যুদ্ধজাহাজভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শিত হয়। এক সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এবার প্রদর্শিত চার প্রকার যুদ্ধজাহাজভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো একত্রে ব্যবহার করলে, দূর, মাঝারি ও স্বল্প পরিসরের আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

পর্যবেক্ষণ করা চার ধরনের যুদ্ধজাহাজভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র হলো এইচএইচকিউ-৯ সি, এইচকিউ-১৬ সি, একটি স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এলওয়াই-১ লেজার অস্ত্র। এগুলো একত্রে এক বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন করে।

চীন এই সামরিক প্যারেডে প্রথমবারের মতো স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থাও প্রদর্শন করেছে। এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জিংলেই-১ আকাশভিত্তিক দীর্ঘপাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র, জুলাং-৩ সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ডংফেং-৬১, যা ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং নতুন ধরনের ডংফেং-৩১ স্থলভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র।

সূত্র: গ্লোবাল টাইমস

Advertisement

চীন শি জিনপিং

Advertisement

আরও পড়ুন

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারী, কে এই সাবা হায়দার?

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় মুসলিম নারী, কে এই সাবা হায়দার?

ট্রাম্প প্রশাসনের তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ

ট্রাম্প প্রশাসনের তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ

স্বর্ণে মোড়ানো ১২৬ কক্ষের রাজপ্রাসাদ, প্রবেশমূল্য লাখ ডলার—ট্রাম্পের বিলাসী জগতের অন্দরমহল

স্বর্ণে মোড়ানো ১২৬ কক্ষের রাজপ্রাসাদ, প্রবেশমূল্য লাখ ডলার—ট্রাম্পের বিলাসী জগতের অন্দরমহল

সান্তিয়াগো পেনা গ্রেফতার, প্যারাগুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট আলিয়ানা

সান্তিয়াগো পেনা গ্রেফতার, প্যারাগুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট আলিয়ানা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম