কোনো লেখাই সমাজ-নিরপেক্ষ না
jugantor
কোনো লেখাই সমাজ-নিরপেক্ষ না

  বিমল গুহ  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫৩:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

বিমল গুহ বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। জন্ম চট্টগ্রামে, ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে এ অঞ্চলের কবিতা যাদের হাতে নতুন বোধ ও জীবনোপলব্ধিতে নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে বিমল গুহ তাদের অন্যতম। বিষয়, আঙ্গিক ও কাব্যবিন্যাসের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে তার কবিতা উজ্জ্বল।

১৯৮২ সালে প্রথম কাব্য ‘অহংকার তোমার শব্দ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি সচেতন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। বাংলা কাব্যভুবনে ইতোমধ্যেই তৈরি করে নিয়েছেন স্বতন্ত্র পরিমণ্ডল। জাতির নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিশ্বস্ত ও শিল্পিত রূপকার তিনি। উপমা-রূপক-চিত্রকল্পের পরিমিত ব্যবহারে বিমল গুহের ভাষা বলিষ্ঠ ও সাবলীল।

আমন্ত্রিত-কবি হিসাবে তিনি য্ক্তুরাজ্যের স্কটল্যান্ডের ন্যাশনাল থিয়েটার হাউস, ভারতের সৌহার্দ কবিতা উৎসব, পূর্ব মেদিনীপুর বিশ্ব বাংলা কবিতা উৎসব, পশ্চিমবঙ্গের পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাংলা কবিতা উৎসব, দিল্লতে অনুষ্ঠিত সার্ক সাহিত্য সম্মেলনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহিত্যসভায় অংশগ্রহণ করেছেন।

এ পর্যন্ত তার ৩৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে; এর মধ্যে ১৫টি কাব্য, ৯চি কিশোরকাব্য ও ১২টি অন্যান্য গ্রন্থ। গ্রন্থগুলো হলো : কাব্য- ‘অহংকার তোমার শব্দ’ (১৯৮২), ‘সাঁকো পার হলে খোলাপথ’ (১৯৮৫), ‘স্বপ্নে জ্বলে শর্তহীন ভোর’ (১৯৮৬), ‘ভালোবাসার কবিতা’ (১৯৮৯), ‘নষ্ট মানুষ ও অন্যান্য কবিতা’ (১৯৯৫), ‘প্রতিবাদী শব্দের মিছিল’ (২০০০), ‘নির্বাচিত কবিতা’ (২০০১), ‘আমরা রয়েছি মাটি ছুঁয়ে’ (২০১১), ‘বিবরের গান’ (২০১৫), ‘প্রত্যেকেই পৃথক বিপ্লবী’ (২০১৫), ‘কবিতাসংগ্রহ’ (২০১৬), ‘ও প্রেম ও জলতরঙ্গ’ (২০১৯), ‘দ্বিতীয় বৃত্তে’ (২০২০); এ ছাড়া কিশোরকাব্য- ‘মেঘ গুড়গুড় বিষ্টি নামে’ (২০০০), ‘আগুনের ডিম’ (২০০১, ‘চড়াই ছানা’ (২০০২), ‘সাদা মেঘের ভেলা’ (২০০৮), ‘টুপুর ও চরকা বুড়ি’ (২০১৩), ‘কিশোর কবিতাসংগ্রহ’ (২০১৩), ‘টুপার সারাবেলা’ (২০১৬), ‘শেখ মুজিবের বজ্রকণ্ঠ ডাক’ (২০২০); ভ্রমণগ্রন্থ- ‘অন্য দেশে অন্য ভুবনে’ (২০০৮), ‘স্ট্যাচু অব লিবাটি’ (২০১৮); গবেষণাগ্রন্থ- ‘ওহীদুল আলম : জীবন ও সাহিত্য’ (১৯৯৯), ‘আধুনিক বাংলা কবিতায় লোকজ উপাদান’ (২০০১) প্রভৃতি।

সাহিত্য সাধনার জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পরিষদ কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছেন ১৯৭৯ সালে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছেন। প্রগতিশীল চিন্তার ধারক ও শহিদ পরিবারের সদস্য বিমল গুহ সাহিত্য ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ মানুষ।

তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- নিজগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ‘স্মৃতিএকাত্তর’ (২০১৬), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগ (২০১৫), বাজালিয়া প্রসন্ন গুহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯১) ইত্যাদি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : জুননু রাইন

যুগান্তর: দীর্ঘ সাহিত্য যাপনের অভিজ্ঞতায় গত ত্রিশ বছরের আলোকে বাংলা কবিতায় বিশেষ কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন?

বিমল গুহ : কবিতা চিরকালীন অনুভবের বিষয়। সভ্যতা বিকাশের এক পর্যায়ে মানুষ যখন মনের ভাব বিনিময় করার কৌশল রপ্ত করে, তখন প্রথম পর্যায়ে ছিলো ইঙ্গিত, পরে ভাষা এবং ভাষার নানা কৌশল। কবিতার আদি শক্তিই তো ইঙ্গিত। আধুনিক মানুষ সেই ইঙ্গিতকে কাব্যভাষায় সংযুক্ত করেছে এবং তা যুগের মর্জিমাফিক পরিবর্তন ও পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে আজকের অতি-চেতন রূপ লাভ করেছে।

গত ত্রিশ বছরের সময়সীমা তো তিনটি যুগের সম্প্রসারিত রূপ। অতএব, পরিবর্তন অনিবার্য। এ সময়ের কবিতার ভাষাগত পরিবর্তন তো বটেই, চেতনাগত পরিবর্তনও লক্ষণীয়। যদিও তা প্রচল রীতিকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। কবিচৈতন্য অগ্রসর-চিন্তার ধারক। জলাবদ্ধতার রূপ কবিরা কামনা করে না, তারা প্রবহমানতার প্রয়াসী। তাদের কবিতায় সাংকেতিকতা প্রবলভাবে এসেছে। আর একটি দিক চোখে পড়ে- তা হলো আমিত্বের প্রধান্যহীনতা। এ সময়ের কবিতায় যুগের হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে সর্বজনীন রূপে। বক্রোক্তি কিংবা অতিশয়োক্তির আড়ালে কালের জীবন জিজ্ঞাসার নবতর প্রকাশ আমাদের আশান্বিত করে। তবে জীবনানন্দ দাশের মতো যদি বলি- কোনো কোনো কবিতা ‘কল্পনার ভেতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা’র ইঙ্গিতবাহী মনে হয়েছে।

যুগান্তর: স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য কোনো ধরনের কাব্যান্দোলন গড়ে ওঠেনি। এখানের কবিতার এ রকম ঝিমিয়ে পড়ার বিশেষ কী কী কারণ আপনি উল্লেখ করবেন?

বিমল গুহ : শিল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে নানা আন্দোলনের কথা তো আমরা শুনেছি। আমরা অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে (মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইউরোপের রোমান্টিক কাব্যান্দোলনের কথা জানি। তা হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়ে। সে সময় ব্যক্তিচিন্তার প্রাধান্য ও বিবেকের দায় থেকে মুক্তির জন্য রোমান্টিক প্রবণতা প্রাধান্য পেয়েছিল। আমাদের সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্য চেতনার বিপরীতে তিরিশের দশকে সমাজমুখী কাব্যান্দোলন হয়েছে। পরেও কেউ কেউ কাব্যান্দোলনে প্রয়াস পেয়েছিলেন, কিন্তু তা কালস্রোতে টেকেনি।

বলছি- কাব্যান্দোলন কেন, যে-কোনো আন্দোলনের পেছনে কাজ করে যুগ-ভাবনা। যুগের দাবি কী, তাই দেখতে হয়। আমাদের কবিতা তিরিশের ধারার অনুবর্তী প্রবাহ। যদিও যুগের স্রোতে এখন তার ভাষা ও রূপ-রঙে ভিন্নতা লক্ষ্যযোগ্য হয়ে উঠছে। এটা তো আন্দোলন নয়, এটা রুচিভেদ মাত্র। এই যে বলা হলো কবিতা ঝিমিয়ে পড়েছে! আসলে তাই কি? কবিতার স্রোত তো আরও বেগবান হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে বিপুল ফলন হয়েছে। একটি দেশের স্বাধীনতা প্রত্যক্ষ করা সহজ ব্যাপার নয়। তার অপ্রতিরোধ্য আবেগ কবিতার ভুবনকে যা দিয়েছে- তার অন্তত অর্ধেকাংশ আমাদের কবিতার প্রধান ফসল। একটি কাব্যান্দোলন গড়ে উঠতে এক শতাব্দীও লেগে যেতে পারে- তা বলে দেবে সময়।

যুগান্তর: সাহিত্যের দশক বিভাজনকে কীভাবে দেখেন? এটি সাহিত্যের ক্ষেত্রে কতটা উপকারী বা অপকারী?

বিমল গুহ : দশকের তিলক লেখকের জন্য নয়। দশক বিভাজন সাহিত্য-গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় হতে পারে। যে-কোনো সাহিত্যিকের আলোচনা- তার সময়ের নিরিখে করা হয় বলে লেখকের সৃষ্টি ও তার সময় আলোচকদের জন্য সহায়ক হয়। দশকের চিন্তা মাথায় রেখে কেউ সাহিত্য-সাধনায় রত হন না; সবাই চায়- তার সৃষ্টি কালোত্তীর্ণ হোক! দশক বিভাজন উপকারী, না অপকারী- এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ নয়!

যুগান্তর: করোনা-পরবর্তী সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে কোন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

বিমল গুহ : সাহিত্য সময়কে ধারণ করে। সমাজের যে-কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা সাহিত্যের বিষয়। কখনো কখনো কম-উল্লেখ্য ঘটনাও! অতিমারি করোনাকাল পৃথিবীর এ যাবৎকালের অতি উল্লেখ্য ঘটনা। কোনো মানুষ এ দুর্যোগের কবল-মুক্ত নয়। এ বিষয় শুধু সাহিত্যের কেন- ইতিহাসেরও বিষয়। পৃথিবীর দেশে দেশে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে হাজার হাজার গল্প-কবিতা রচিত হয়েছে। করোনাকাল- সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনবে না, গুরুত্ববহ বিষয়বস্তুরূপে তা গৃহীত হবে। এই বিষয়ে একদিন, অবশ্যই, কালজয়ী সাহিত্য রচিত হবে- এটা তেমনই একটা মনস্পর্শী বিষয়!

যুগান্তর: আমাদের সামাজিক ইতিহাসের নিরিখে (’৭১-পরবর্তী) মননশীলতার উন্নতি বা অবনতি- ২০২১ সালে এসে কী বলবেন?

বিমল গুহ : সাহিত্যের ক্ষেত্রে মননশীলতা অতি-আবশ্যকীয় বিষয়, যদিও আমরা মননশীল ও সৃজনশীল সাহিত্যকে আলাদা করে দেখি। সৃজনশীল সাহিত্যে মননশীলতা যত বেশি থাকবে, তত তা সময়োত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আমাদের সৃজনশীল সাহিত্যচর্চার তুলনায় মননশীল সাহিত্যচর্চা কম। তবে পরিস্থিতি বদলে যেতে সময় লাগবে না, যখন মেধাবী-তরুণরা এগিয়ে আসবে!

যুগান্তর: বাংলাভাষার কোন গ্রন্থগুলো অন্য ভাষায় অনুবাদ হওয়া দরকার মনে করেন?

বিমল গুহ : অনুবাদ সাহিত্যের ব্যাপ্তি বাড়ায়। আমরা মনে করি অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের কবিতা, উপন্যাস/গল্প, নাটক এমনকি লোককাহিনিগুলো অন্যে দেশের পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা অতি আবশ্যক। রবীন্দ্রনাথের পর আর কোনো সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে তেমন বাইরের পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি- একমাত্র অনুবাদের অভাবে, কিংবা যথোপযুক্ত বিপণন বা প্রচার-সীমাবদ্ধতার কারণে। আমাদের বাংলা একাডেমি এ কাজে বেশি মনোযোগী হতে পারে, অথবা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে একটি অনুবাদ উইং খোলা যেতে পারে।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো পাঠকের অভাব?

বিমল গুহ : এখন ডিজিটাল যুগ- ফেসবুক, ট্যুইটার, ইনস্টগ্রামের যুগ। কেউ কিছু একটা লিখলেই দ্রুততার সঙ্গে সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দেয়, অনেকের তা আর দ্বিতীয়বার পরিমার্জন করার বা পড়ে দেখারও ধৈর্য থাকে না যেন। পোস্ট না-হয় দিল; পাঠক কোথায়- প্রায় সব দর্শক! দেখেই মন্তব্য- আহা... উহু ! তখন সেই রচনাকারী নিজেকে পৃথিবীর সেরা লেখক ভাবতে শুরু করে!

সোশ্যাল মিডিয়া অবশ্যই দরকার- বোদ্ধা পাঠকের কাছে লেখকের পৌঁছানোর জন্য! আমাদের প্রকাশনা জগতের বেশিরভাগ প্রকাশনার নিয়ম-কানুন রক্ষা করে চলেন না। তারা অনেকে লেখার বদলে লেখককে ছাপে, অনেকেরই বিপণন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল! যে-কারণে পাঠক প্রতারিত হয়। প্রকাশনা জগতের এই দৈন্য অদূর ভবিষ্যতে কমে যাবে বলে বিশ্বাস, কারণ মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ের মতো এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগ খোলা হয়েছে। ভালো লেখকের অভাব নেই। অভাব- ভালো প্রকাশকের। ভালো প্রকাশক ভালো লেখাকে পাঠকের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরলে পাঠক উপকৃত হয়। ভালো লেখক ভালো পাঠক তৈরি করে!

যুগান্তর: যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম?

বিমল গুহ : লেখকরা তো সমাজের বিবেক। যে-সমাজে তারা বাস করেন, তাদের রচনা সে-সমাজের প্রতিচ্ছায়াস্বরূপ। কোনো লেখাই সমাজ-নিরপেক্ষ হতে পারে না। আমরা সমাজচিন্তক-লেখক-কবিদের বুদ্ধিজীবী বলেও আখ্যায়িত করি। তারা কখনো বিবেক বিক্রি করেন না, মাথা নত করেন না- কোন অসামঞ্জস্যের কাছে!

বর্তমান সমাজ-পরিস্থিতি আমাদের ভাবায়- যখন বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা নিুগামী হতে দেখি! তবু সমাজ টিকে থাকে। হাতেগোনা হলেও কিছু মানুষ তো সমাজে থাকে। আমাদের কবি-সাহিত্যিক-সমাজচিন্তক অনেকের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, আলোর পথ দেখায়! সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, যতীন সরকারসহ আগের এবং তৎপরবর্তীকালের অনেক লেখকই তো আছেন!

যুগান্তর: এমন কোন দুটি বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন।

বিমল গুহ : বই হচ্ছে জ্ঞানের আধার। তবে পাঠাভ্যাস বড় কথা- ছোটবেলা থেকে এ অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করলে ভালো। যত বেশি পাঠ, তত বেশি জ্ঞান! পাঠ- নির্ভর করে ব্যক্তিরুচির ওপর। যেহেতু পাঠেরও সীমা থাকবে, তাই বাছাই করে পড়তে হয়। বাছাই নিজেকেই করে নিতে হয়।

প্রশ্নানুযায়ী কেবল দুটি বই বাছাই করা বড় কঠিন কাজ। অনেক বইই তো পড়তে হবে, পাঠযোগ্য অনেক বই-ই তো আছে! অবশ্য পাঠযোগ্য বইয়ের মধ্যে- রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’, আর বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আÍজীবনী’ অন্তর্ভুক্ত।

কোনো লেখাই সমাজ-নিরপেক্ষ না

 বিমল গুহ 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিমল গুহ বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। জন্ম চট্টগ্রামে, ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে এ অঞ্চলের কবিতা যাদের হাতে নতুন বোধ ও জীবনোপলব্ধিতে নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে বিমল গুহ তাদের অন্যতম। বিষয়, আঙ্গিক ও কাব্যবিন্যাসের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে তার কবিতা উজ্জ্বল।

১৯৮২ সালে প্রথম কাব্য ‘অহংকার তোমার শব্দ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি সচেতন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। বাংলা কাব্যভুবনে ইতোমধ্যেই তৈরি করে নিয়েছেন স্বতন্ত্র পরিমণ্ডল। জাতির নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিশ্বস্ত ও শিল্পিত রূপকার তিনি। উপমা-রূপক-চিত্রকল্পের পরিমিত ব্যবহারে বিমল গুহের ভাষা বলিষ্ঠ ও সাবলীল।

আমন্ত্রিত-কবি হিসাবে তিনি য্ক্তুরাজ্যের স্কটল্যান্ডের ন্যাশনাল থিয়েটার হাউস, ভারতের সৌহার্দ কবিতা উৎসব, পূর্ব মেদিনীপুর বিশ্ব বাংলা কবিতা উৎসব, পশ্চিমবঙ্গের পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাংলা কবিতা উৎসব, দিল্লতে অনুষ্ঠিত সার্ক সাহিত্য সম্মেলনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহিত্যসভায় অংশগ্রহণ করেছেন।

এ পর্যন্ত তার ৩৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে; এর মধ্যে ১৫টি কাব্য, ৯চি কিশোরকাব্য ও ১২টি অন্যান্য গ্রন্থ। গ্রন্থগুলো হলো : কাব্য- ‘অহংকার তোমার শব্দ’ (১৯৮২), ‘সাঁকো পার হলে খোলাপথ’ (১৯৮৫), ‘স্বপ্নে জ্বলে শর্তহীন ভোর’ (১৯৮৬), ‘ভালোবাসার কবিতা’ (১৯৮৯), ‘নষ্ট মানুষ ও অন্যান্য কবিতা’ (১৯৯৫), ‘প্রতিবাদী শব্দের মিছিল’ (২০০০), ‘নির্বাচিত কবিতা’ (২০০১), ‘আমরা রয়েছি মাটি ছুঁয়ে’ (২০১১), ‘বিবরের গান’ (২০১৫), ‘প্রত্যেকেই পৃথক বিপ্লবী’ (২০১৫), ‘কবিতাসংগ্রহ’ (২০১৬), ‘ও প্রেম ও জলতরঙ্গ’ (২০১৯), ‘দ্বিতীয় বৃত্তে’ (২০২০); এ ছাড়া কিশোরকাব্য- ‘মেঘ গুড়গুড় বিষ্টি নামে’ (২০০০), ‘আগুনের ডিম’ (২০০১, ‘চড়াই ছানা’ (২০০২), ‘সাদা মেঘের ভেলা’ (২০০৮), ‘টুপুর ও চরকা বুড়ি’ (২০১৩), ‘কিশোর কবিতাসংগ্রহ’ (২০১৩), ‘টুপার সারাবেলা’ (২০১৬), ‘শেখ মুজিবের বজ্রকণ্ঠ ডাক’ (২০২০); ভ্রমণগ্রন্থ- ‘অন্য দেশে অন্য ভুবনে’ (২০০৮), ‘স্ট্যাচু অব লিবাটি’ (২০১৮); গবেষণাগ্রন্থ- ‘ওহীদুল আলম : জীবন ও সাহিত্য’ (১৯৯৯), ‘আধুনিক বাংলা কবিতায় লোকজ উপাদান’ (২০০১) প্রভৃতি।

সাহিত্য সাধনার জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পরিষদ কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ তরুণ কবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছেন ১৯৭৯ সালে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছেন। প্রগতিশীল চিন্তার ধারক ও শহিদ পরিবারের সদস্য বিমল গুহ সাহিত্য ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ মানুষ।

তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- নিজগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ‘স্মৃতিএকাত্তর’ (২০১৬), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগ (২০১৫), বাজালিয়া প্রসন্ন গুহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯১) ইত্যাদি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : জুননু রাইন

যুগান্তর: দীর্ঘ সাহিত্য যাপনের অভিজ্ঞতায় গত ত্রিশ বছরের আলোকে বাংলা কবিতায় বিশেষ কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন?

বিমল গুহ : কবিতা চিরকালীন অনুভবের বিষয়। সভ্যতা বিকাশের এক পর্যায়ে মানুষ যখন মনের ভাব বিনিময় করার কৌশল রপ্ত করে, তখন প্রথম পর্যায়ে ছিলো ইঙ্গিত, পরে ভাষা এবং ভাষার নানা কৌশল। কবিতার আদি শক্তিই তো ইঙ্গিত। আধুনিক মানুষ সেই ইঙ্গিতকে কাব্যভাষায় সংযুক্ত করেছে এবং তা যুগের মর্জিমাফিক পরিবর্তন ও পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে আজকের অতি-চেতন রূপ লাভ করেছে।

গত ত্রিশ বছরের সময়সীমা তো তিনটি যুগের সম্প্রসারিত রূপ। অতএব, পরিবর্তন অনিবার্য। এ সময়ের কবিতার ভাষাগত পরিবর্তন তো বটেই, চেতনাগত পরিবর্তনও লক্ষণীয়। যদিও তা প্রচল রীতিকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। কবিচৈতন্য অগ্রসর-চিন্তার ধারক। জলাবদ্ধতার রূপ কবিরা কামনা করে না, তারা প্রবহমানতার প্রয়াসী। তাদের কবিতায় সাংকেতিকতা প্রবলভাবে এসেছে। আর একটি দিক চোখে পড়ে- তা হলো আমিত্বের প্রধান্যহীনতা। এ সময়ের কবিতায় যুগের হাহাকার প্রকাশ পেয়েছে সর্বজনীন রূপে। বক্রোক্তি কিংবা অতিশয়োক্তির আড়ালে কালের জীবন জিজ্ঞাসার নবতর প্রকাশ আমাদের আশান্বিত করে। তবে জীবনানন্দ দাশের মতো যদি বলি- কোনো কোনো কবিতা ‘কল্পনার ভেতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা’র ইঙ্গিতবাহী মনে হয়েছে।

যুগান্তর: স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য কোনো ধরনের কাব্যান্দোলন গড়ে ওঠেনি। এখানের কবিতার এ রকম ঝিমিয়ে পড়ার বিশেষ কী কী কারণ আপনি উল্লেখ করবেন?

বিমল গুহ : শিল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে নানা আন্দোলনের কথা তো আমরা শুনেছি। আমরা অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে (মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইউরোপের রোমান্টিক কাব্যান্দোলনের কথা জানি। তা হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়ে। সে সময় ব্যক্তিচিন্তার প্রাধান্য ও বিবেকের দায় থেকে মুক্তির জন্য রোমান্টিক প্রবণতা প্রাধান্য পেয়েছিল। আমাদের সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের সৌন্দর্য চেতনার বিপরীতে তিরিশের দশকে সমাজমুখী কাব্যান্দোলন হয়েছে। পরেও কেউ কেউ কাব্যান্দোলনে প্রয়াস পেয়েছিলেন, কিন্তু তা কালস্রোতে টেকেনি।

বলছি- কাব্যান্দোলন কেন, যে-কোনো আন্দোলনের পেছনে কাজ করে যুগ-ভাবনা। যুগের দাবি কী, তাই দেখতে হয়। আমাদের কবিতা তিরিশের ধারার অনুবর্তী প্রবাহ। যদিও যুগের স্রোতে এখন তার ভাষা ও রূপ-রঙে ভিন্নতা লক্ষ্যযোগ্য হয়ে উঠছে। এটা তো আন্দোলন নয়, এটা রুচিভেদ মাত্র। এই যে বলা হলো কবিতা ঝিমিয়ে পড়েছে! আসলে তাই কি? কবিতার স্রোত তো আরও বেগবান হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে বিপুল ফলন হয়েছে। একটি দেশের স্বাধীনতা প্রত্যক্ষ করা সহজ ব্যাপার নয়। তার অপ্রতিরোধ্য আবেগ কবিতার ভুবনকে যা দিয়েছে- তার অন্তত অর্ধেকাংশ আমাদের কবিতার প্রধান ফসল। একটি কাব্যান্দোলন গড়ে উঠতে এক শতাব্দীও লেগে যেতে পারে- তা বলে দেবে সময়।

যুগান্তর: সাহিত্যের দশক বিভাজনকে কীভাবে দেখেন? এটি সাহিত্যের ক্ষেত্রে কতটা উপকারী বা অপকারী?

বিমল গুহ : দশকের তিলক লেখকের জন্য নয়। দশক বিভাজন সাহিত্য-গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় হতে পারে। যে-কোনো সাহিত্যিকের আলোচনা- তার সময়ের নিরিখে করা হয় বলে লেখকের সৃষ্টি ও তার সময় আলোচকদের জন্য সহায়ক হয়। দশকের চিন্তা মাথায় রেখে কেউ সাহিত্য-সাধনায় রত হন না; সবাই চায়- তার সৃষ্টি কালোত্তীর্ণ হোক! দশক বিভাজন উপকারী, না অপকারী- এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ নয়!

যুগান্তর: করোনা-পরবর্তী সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে কোন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে?

বিমল গুহ : সাহিত্য সময়কে ধারণ করে। সমাজের যে-কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা সাহিত্যের বিষয়। কখনো কখনো কম-উল্লেখ্য ঘটনাও! অতিমারি করোনাকাল পৃথিবীর এ যাবৎকালের অতি উল্লেখ্য ঘটনা। কোনো মানুষ এ দুর্যোগের কবল-মুক্ত নয়। এ বিষয় শুধু সাহিত্যের কেন- ইতিহাসেরও বিষয়। পৃথিবীর দেশে দেশে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে হাজার হাজার গল্প-কবিতা রচিত হয়েছে। করোনাকাল- সাহিত্যের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনবে না, গুরুত্ববহ বিষয়বস্তুরূপে তা গৃহীত হবে। এই বিষয়ে একদিন, অবশ্যই, কালজয়ী সাহিত্য রচিত হবে- এটা তেমনই একটা মনস্পর্শী বিষয়!

যুগান্তর: আমাদের সামাজিক ইতিহাসের নিরিখে (’৭১-পরবর্তী) মননশীলতার উন্নতি বা অবনতি- ২০২১ সালে এসে কী বলবেন?

বিমল গুহ : সাহিত্যের ক্ষেত্রে মননশীলতা অতি-আবশ্যকীয় বিষয়, যদিও আমরা মননশীল ও সৃজনশীল সাহিত্যকে আলাদা করে দেখি। সৃজনশীল সাহিত্যে মননশীলতা যত বেশি থাকবে, তত তা সময়োত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আমাদের সৃজনশীল সাহিত্যচর্চার তুলনায় মননশীল সাহিত্যচর্চা কম। তবে পরিস্থিতি বদলে যেতে সময় লাগবে না, যখন মেধাবী-তরুণরা এগিয়ে আসবে!

যুগান্তর: বাংলাভাষার কোন গ্রন্থগুলো অন্য ভাষায় অনুবাদ হওয়া দরকার মনে করেন?

বিমল গুহ : অনুবাদ সাহিত্যের ব্যাপ্তি বাড়ায়। আমরা মনে করি অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের কবিতা, উপন্যাস/গল্প, নাটক এমনকি লোককাহিনিগুলো অন্যে দেশের পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা অতি আবশ্যক। রবীন্দ্রনাথের পর আর কোনো সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে তেমন বাইরের পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি- একমাত্র অনুবাদের অভাবে, কিংবা যথোপযুক্ত বিপণন বা প্রচার-সীমাবদ্ধতার কারণে। আমাদের বাংলা একাডেমি এ কাজে বেশি মনোযোগী হতে পারে, অথবা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে একটি অনুবাদ উইং খোলা যেতে পারে।

যুগান্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব নাকি ভালো পাঠকের অভাব?

বিমল গুহ : এখন ডিজিটাল যুগ- ফেসবুক, ট্যুইটার, ইনস্টগ্রামের যুগ। কেউ কিছু একটা লিখলেই দ্রুততার সঙ্গে সোস্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করে দেয়, অনেকের তা আর দ্বিতীয়বার পরিমার্জন করার বা পড়ে দেখারও ধৈর্য থাকে না যেন। পোস্ট না-হয় দিল; পাঠক কোথায়- প্রায় সব দর্শক! দেখেই মন্তব্য- আহা... উহু ! তখন সেই রচনাকারী নিজেকে পৃথিবীর সেরা লেখক ভাবতে শুরু করে!

সোশ্যাল মিডিয়া অবশ্যই দরকার- বোদ্ধা পাঠকের কাছে লেখকের পৌঁছানোর জন্য! আমাদের প্রকাশনা জগতের বেশিরভাগ প্রকাশনার নিয়ম-কানুন রক্ষা করে চলেন না। তারা অনেকে লেখার বদলে লেখককে ছাপে, অনেকেরই বিপণন ব্যবস্থা খুবই দুর্বল! যে-কারণে পাঠক প্রতারিত হয়। প্রকাশনা জগতের এই দৈন্য অদূর ভবিষ্যতে কমে যাবে বলে বিশ্বাস, কারণ মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ের মতো এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষাদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগ খোলা হয়েছে। ভালো লেখকের অভাব নেই। অভাব- ভালো প্রকাশকের। ভালো প্রকাশক ভালো লেখাকে পাঠকের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরলে পাঠক উপকৃত হয়। ভালো লেখক ভালো পাঠক তৈরি করে!

যুগান্তর: যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, জীবিত এমন তিনজন লেখকের নাম?

বিমল গুহ : লেখকরা তো সমাজের বিবেক। যে-সমাজে তারা বাস করেন, তাদের রচনা সে-সমাজের প্রতিচ্ছায়াস্বরূপ। কোনো লেখাই সমাজ-নিরপেক্ষ হতে পারে না। আমরা সমাজচিন্তক-লেখক-কবিদের বুদ্ধিজীবী বলেও আখ্যায়িত করি। তারা কখনো বিবেক বিক্রি করেন না, মাথা নত করেন না- কোন অসামঞ্জস্যের কাছে!

বর্তমান সমাজ-পরিস্থিতি আমাদের ভাবায়- যখন বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা নিুগামী হতে দেখি! তবু সমাজ টিকে থাকে। হাতেগোনা হলেও কিছু মানুষ তো সমাজে থাকে। আমাদের কবি-সাহিত্যিক-সমাজচিন্তক অনেকের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, আলোর পথ দেখায়! সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, যতীন সরকারসহ আগের এবং তৎপরবর্তীকালের অনেক লেখকই তো আছেন!

যুগান্তর: এমন কোন দুটি বই, যা অবশ্যই পড়া উচিত বলে পাঠককে পরামর্শ দেবেন।

বিমল গুহ : বই হচ্ছে জ্ঞানের আধার। তবে পাঠাভ্যাস বড় কথা- ছোটবেলা থেকে এ অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করলে ভালো। যত বেশি পাঠ, তত বেশি জ্ঞান! পাঠ- নির্ভর করে ব্যক্তিরুচির ওপর। যেহেতু পাঠেরও সীমা থাকবে, তাই বাছাই করে পড়তে হয়। বাছাই নিজেকেই করে নিতে হয়।

প্রশ্নানুযায়ী কেবল দুটি বই বাছাই করা বড় কঠিন কাজ। অনেক বইই তো পড়তে হবে, পাঠযোগ্য অনেক বই-ই তো আছে! অবশ্য পাঠযোগ্য বইয়ের মধ্যে- রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’, আর বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আÍজীবনী’ অন্তর্ভুক্ত।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন