|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঈদের দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব। এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব।
ঈদের নামাজের পার্থক্য হলো—অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হবে। প্রথম রাকাতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে সানা পাঠ করে অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা পড়তে হবে।
দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে রুকুতে যেতে হবে। প্রতি তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে। তাকবির বলা ওয়াজিব।
ঈদের নামাজ মাঠে-ময়দানে পড়া উত্তম। তবে শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ আদায় জায়েজ আছে।
ঈদের নামাজের সময়
সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা (অর্ধহাত) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত ঈদের নামাজের সময় থাকে। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পড়া সুন্নত, যেন নামাজের আগেই বেশি বেশি সদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যায়। (ফাতহুল কাদির : ২/৭৩, আল-মুগনি : ২/১১৭)
নামাজের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই।
মনে মনে নির্দিষ্ট করতে হবে যে- আমি এই ঈদের নামাজ কিবলামুখী হয়ে এই ইমামের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি।
কেউ যদি এই তাকবিরগুলো না পায় তাহলে সে রুকুতে থাকা অবস্থায় আদায় করে নেবে। কারো পূর্ণ এক রাকাত ছুটে গেলে সে দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর তাকবিরগুলো আদায় করে নেবে।
প্রথম রাকাত
১. তাকবিরে তাহরিমা মানে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধা।
২. সানা পড়া।
৩. অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া। এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে ‘তিন তাসবিহ’ পরিমাণ সময় বিরত থাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নেওয়া।
৪. আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া।
৫. সূরা ফাতিহা পড়া।
৬. সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা মেলানো। অতঃপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা।
দ্বিতীয় রাকাত
১. বিসমিল্লাহ পড়া।
২. সূরা ফাতিহা পড়া।
৩. অন্য সূরা মেলানো।
৪. সূরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া। প্রথম রাকাতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া; অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধা।
৫. তারপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।
৬. সিজদা আদায় করে তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।
তারপর খুতবা। ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম দুটি খুতবা দেবেন আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবে।
নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব।
ঈদের নামাজ ছুটে গেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তারপরও ছুটে গেলে এর কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত ইশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নিতে হবে এবং তাতে ঈদের নামাজের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলবে না।
