যে ১০ চাকরিতে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
যে ১০ চাকরিতে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ এখন আর শুধু উৎসব বা ছুটির মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সারা বছরের বাস্তবতা। বিশেষ করে শিফটভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে চাপ এতটাই তীব্র হয়ে উঠছে যে অনেক বিশেষজ্ঞ একে ‘শিফট সুলকিং’ বা শিফট-সম্পর্কিত অবসাদ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মনে করছেন চলতি বছরে ছুটির সময় তাদের চাপ আগের বছরের তুলনায় আরও বাড়বে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ হার ২৮ শতাংশ বেশি। কর্মজীবীদের মধ্যে ৯০ শতাংশই কাজের চাপ অনুভব করছেন; অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কাজ তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে। আরও ৭৭ শতাংশ বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী চাপ তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে কোন কোন খাতে চাপের মাত্রা সবচেয়ে বেশি হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে স্ট্রেস ও এনার্জি ম্যানেজমেন্ট অ্যাপভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Welltory। ২০২৫ সালে পরিচালিত তাদের এক বিশেষ বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পখাতের কর্মচাপ সাতটি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
যেসব সূচকে নির্ধারিত হয়েছে চাপের মাত্রা
গবেষণায় যে সাতটি মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—
- সাপ্তাহিক কাজের সময় (দীর্ঘ কর্মঘণ্টা মানেই বেশি চাপ)
- চাকরির শূন্যপদের হার (খালি পদ বেশি হলে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে)
- কর্মস্থলে আঘাত ও অসুস্থতার হার
- সাপ্তাহিক আয় (কম আয় মানসিক ও আর্থিক চাপ বাড়ায়)
- ছাঁটাই ও বরখাস্তের হার
- কর্মী ত্যাগের হার (বার্নআউট ও অসন্তোষের ইঙ্গিত)
- কর্মী ছাটাই হার (প্রেরণাহীনতা ও ক্লান্তির সূচক)
প্রতিটি সূচককে ‘মিন–ম্যাক্স নরমালাইজেশন’ পদ্ধতিতে মানসম্মত করে ১ থেকে ১০০ স্কেলে চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দিকে যেসব খাতে মানসিক চাপ সবচেয়ে বেশি হতে পারে, সেগুলো হলো—
১. বিনোদন ও আতিথেয়তা খাত — স্কোর ৬৬
২. পেশাদার ও ব্যবসায়িক সেবা — ৫৬
৩. পরিবহন ও গুদাম ব্যবস্থাপনা — ৫৩
৪. খনি ও লগিং — ৫০
৫. বেসরকারি শিক্ষা
৬. বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা — ৪৬
৭. তথ্যপ্রযুক্তি — ৪৩
৮. নির্মাণ — ৪৩
৯. খুচরা বাণিজ্য — ৪২
১০. ইউটিলিটি সেবা — ৪২
তালিকার শীর্ষে থাকা বিনোদন ও আতিথেয়তা খাতে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মৌসুমি কাজের চাপ এবং কর্মী ঘাটতি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও উচ্চ প্রত্যাশা, নিরবচ্ছিন্ন কাজের পরিবেশ ও দক্ষ জনবলের চাহিদা চাপ বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মচাপ কমাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কর্মঘণ্টা ব্যবস্থাপনা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা। অন্যথায় বার্নআউট, কর্মী ত্যাগ এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস—সব মিলিয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

