ফ্যাক্ট চেকিংয়ে গড়তে পারেন ক্যারিয়ার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে প্রতিদিন মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে বিপুল পরিমাণ তথ্য । এর মধ্যে প্রয়োজনীয় খবরের পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে গুজব, ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ডিপফেক ভিডিও।
অনেক সময় এসব মিথ্যা তথ্য এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে সত্য আর কোনটি মিথ্যা, তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে সততা যাচাই করে সঠিক তথ্য শনাক্ত করে মানুষের সামনে তুলে ধরার গুরুত্ব বাড়ছে। আর এ সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ। ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাই এখন সাংবাদিকতার পাশাপাশি ডিজিটাল দুনিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হয়ে উঠেছে।
কীভাবে কাজ করেন ফ্যাক্ট-চেকাররা?
ফ্যাক্ট-চেকারদের প্রধান কাজ হলো কোনো দাবি, ছবি, ভিডিও, বক্তব্য কিংবা সংবাদ সত্য কিনা, তা যাচাই করে দেখা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো পোস্টে ভুয়া তথ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য, পুরোনো ছবি, ভুয়া পরিসংখ্যান বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সেটির প্রকৃত উৎস তারা খুঁজে বের করেন।
এ জন্য সংবাদমাধ্যম, সরকারি নথি, গবেষণা প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা হয়। কোনো ছবি বা ভিডিও কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, সেটি সম্পাদনা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়।
অনেক সময় পুরোনো কোনো ঘটনার ছবি নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। আবার ভিডিওর কিছু অংশ কেটে ভিন্ন অর্থে প্রচার করা হয়। এসব ক্ষেত্রে ফ্যাক্ট-চেকারদের কাজ হলো এসব বিভ্রান্তির পেছনে থাকা প্রকৃত তথ্য খুঁজে বের করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তুলে ধরা।
ডিপফেক শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নতির ফলে এখন এমন ভিডিও ও অডিও তৈরি করা সম্ভব, যেখানে কোনো ব্যক্তিকে এমন কিছু বলতে বা করতে দেখা যায়, যা তিনি বাস্তবে বলেননি বা করেননি। কৃত্রিমভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত এসব কনটেন্টকে সাধারণভাবে ডিপফেক বলা হয়।
ডিপফেক শনাক্ত করতে শুধু ভিডিও দেখে সিদ্ধান্তে আসা যায় না। ভিডিওর উৎস, প্রকাশের সময়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, মুখের নড়াচড়া, শব্দ ও ছবির অসামঞ্জস্য এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সংকেত বিশ্লেষণ করেন ফ্যাক্ট-চেকাররা । প্রয়োজনে ভিডিওটির মূল সংস্করণ খুঁজে বের করা হয়।
তবে সব ডিপফেক প্রযুক্তিগত সফটওয়্যার দিয়ে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাই প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতাও প্রয়োজন।
যে দক্ষতাগুলো প্রয়োজন
ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রথমেই ভালো গবেষণা ও অনুসন্ধানী দক্ষতা থাকা জরুরি।কোনো তথ্য দেখেই বিশ্বাস না করে প্রশ্ন করা এবং একাধিক উৎস থেকে তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
এ ছাড়া সংবাদ ও তথ্যের উৎস যাচাই, গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চসহ বিভিন্ন অনুসন্ধানী সরঞ্জাম ব্যবহারের জ্ঞান, ছবি, ভিডিও ও অডিও বিশ্লেষণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন লেখার দক্ষতা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা বোঝা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন গোপনীয়তা সম্পর্কে ধারণা, নিরপেক্ষতা, সততা ও নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওসিন্টের ধারণাও কাজে লাগে। ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা ছবি, ভিডিও, মানচিত্র, নথি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনও ঘটনার সত্যতা যাচাই করা এ পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোথায় কাজের সুযোগ?
ফ্যাক্ট-চেকাররা সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। তথ্য যাচাই ভিত্তিক সংগঠন,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট যাচাই কার্যক্রম, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পও এ ধরনের পেশাজীবীদের প্রয়োজন হয়।
ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বাড়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর কনটেন্টের ব্যবহারও বাড়ছে। ফলে স্থানীয় ভাষায় তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বাংলা ভাষায় দক্ষ, সাংবাদিকতা বোঝেন এবং ডিজিটাল অনুসন্ধানে পারদর্শী তরুণদের জন্য এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে।
কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, আইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান কিংবা ডেটা বিশ্লেষণের শিক্ষার্থীরা এ পেশায় আগ্রহী হতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে ডিগ্রি থাকাই একমাত্র শর্ত নয়। নিয়মিত অনুশীলন, তথ্য যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি যাচাই করে অনুশীলন করা যেতে পারে। পাশাপাশি রিভার্স ইমেজ সার্চ, ভিডিওর উৎস অনুসন্ধান এবং তথ্যের প্রাথমিক নথি খোঁজার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় তথ্যের পরিমাণ যত বাড়ছে, সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনও তত বেড়ে চলছে।। ফলে ফ্যাক্ট-চেকিং শুধু সাংবাদিকতার একটি বিশেষায়িত কাজ নয়; ভবিষ্যতের ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থায় এটি ক্যারিয়ারের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
