আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট গাড়ি জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাতের রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতে তার নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি কার জব্দ ও তার নামে থাকা ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ আদালতে আবেদনটি করেন।
দুদকের আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে তার নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, আবুল বারকাতের নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা আড়াই লাখ টাকা রয়েছে।
এছাড়া মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতে তার নামে থাকা দুটি পৃথক ফ্ল্যাটও রয়েছে। এসব সম্পদই আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তার নামে থাকা ২৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি কার এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে শুধু স্থাবর সম্পদ নয়, আবুল বারকাতের নামে থাকা বড় অঙ্কের অস্থাবর সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে।
আবেদনে বলা হয়, তার নামে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের আশঙ্কা, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই এসব সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর বা স্থানান্তরের চেষ্টা করা হতে পারে। এ অবস্থায় সম্পদগুলো হাতছাড়া হলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
দুদক বলেছে, অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে অর্জিত সম্পত্তি হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে সম্পদগুলো দ্রুত জব্দ ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
আবেদনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮-এর বিধান উল্লেখ করা হয়। এসব বিধানের আওতায় আবুল বারকাতের সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করে দুদক।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডির বাসা থেকে দুদকের একটি মামলায় আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই মামলায় জামিন পান তিনি। এরপর তাকে ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলাতেও জামিন পেয়ে পরবর্তী সময়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
