Logo
Logo
×
   

সাহিত্য

২০ ফেব্রুয়ারি নয়, ঈদের পরই হোক ‘প্রাণবন্ত’ বইমেলা

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

২০ ফেব্রুয়ারি নয়, ঈদের পরই হোক ‘প্রাণবন্ত’ বইমেলা

একুশে বইমেলা। ছবি: সংগৃহীত

আমরা স্বাক্ষরকারী দেশের ৩২১ জন সৃজনশীল প্রকাশক গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সর্বস্তরের সৃজনশীল প্রকাশকদের যৌক্তিক দাবি ও বর্তমান বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে বাংলা একাডেমি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আমরা এ সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’, ‘আত্মঘাতী’ এবং প্রকাশনা শিল্পকে প্রবল অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে মনে করি।

বইমেলা কোনো সরকারি রুটিনওয়ার্ক বা কেবল আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা; কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজার মধ্যে মেলা আয়োজনের যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে মেলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

কেন আমরা ঈদের পরে মেলা চাই?

১. পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা: ২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলে তা হবে পবিত্র মাহে রমজানের মধ্যে।  রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজট ঠেলে পাঠকরা মেলায় আসবেন না। পাঠকহীন মেলা প্রকাশক ও আয়োজক— উভয়ের জন্যই বিব্রতকর।

২. মানবিক বিপর্যয়: মেলার স্টলগুলোতে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করে। সারাদিন রোজা রেখে, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের পর এই শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক। আমরা আমাদের কর্মীদের এই কষ্টের মধ্যে ফেলতে চাই না।

৩. অর্থনৈতিক ঝুঁকি: গত দেড় বছরে প্রকাশনা শিল্প চরম মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরও একটি অসফল মেলায় অংশ নিয়ে অবশিষ্ট পুঁজি হারানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

বাংলা একাডেমি এপ্রিলে ঝড়-বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই— ঈদের পরে মেলা হলে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয়, সেই ঝুঁকি আমরা নিতে প্রস্তুত। কিন্তু জেনেশুনে রোজার মধ্যে মেলা করে নিশ্চিত ব্যবসায়িক মৃত্যুর ঝুঁকি আমরা নেব না।

সরকারের দায়বদ্ধতা ও আমাদের অবস্থান

দেশের আপামর জনগণের জানা দরকার যে, আমরা বইমেলার বিপক্ষে নই বরং বইমেলা সফল করতে আয়োজক কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সেই কারণে আমরা বাংলা একাডেমি ছাড়াও সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আমাদের আশা ছিল, বর্তমান সরকার অংশীজনের মতামতের গুরুত্ব দেবে।

কিন্তু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলতে হয়, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল প্রকাশকদের এ অস্তিত্বের সংকট অনুধাবন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। রাষ্ট্র যখন কেবল বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতা রক্ষায় ব্যস্ত, তখন আমরা প্রকাশকরা অস্তিত্ব রক্ষায় লড়ছি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নেওয়া আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে একটি সৃজনশীল শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়লে তার দায়ভার সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। প্রকাশকদের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, প্রকাশনা খাত সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।

সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এবং বাংলা একাডেমির প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান— জেদ পরিহার করুন। প্রকাশকদের এই গণদাবি মেনে নিয়ে বইমেলা ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করুন— যখন মানুষ উৎসবের আমেজে বই কিনবে।

আমাদের অঙ্গীকার

‘আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী প্রকাশকরা দ্ব্যর্থহীনভাবে অঙ্গীকার করছি যে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা ও পবিত্র রমজান মাসের কারণে ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজিত হলে ব্যবসায়িক ও মানবিক ঝুঁকি নিয়ে তাতে অংশগ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজিত হলে আমরা তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করব এবং মেলা সফল করতে কর্তৃপক্ষের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

বিনীত,

বইমেলা পেছানোর দাবিতে একাত্ম—

৩২১ জন সাধারণ প্রকাশক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .