'প্রেম একবার নয়, দু'বার এসেছে জীবনে'

  যুগান্তর ডেস্ক ২৯ মে ২০২০, ১৮:১০:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

সাম্প্রতিক বাংলা কথাসাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক সেলিনা হোসেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম তার সাহিত্যে নতুন মাত্রা লাভ করেছে। বাস্তবতার করাতকলে নিষ্পেষিত মানুষের জীবনযন্ত্রণা তার কথাসাহিত্যে রূপায়িত হয়েছে নতুন ব্যঞ্জনায়। নিরন্তর সৃষ্টিমুখর এই লেখকের প্রায় শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

গায়ত্রী সন্ধ্যা, মগ্ন চৈতন্যে শিস, যুদ্ধ, পোকামাকড়ের ঘরবসতি, হাঙর নদী গ্রেনেড প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য রচনা। তার উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে বেশকিছু চলচ্চিত্র। অগণিত পুরস্কার ও সম্মাননা তিনি লাভ করেছেন।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮০), একুশে পদক (২০০৯), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৮), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার (২০১০), অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), এছাড়া রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেছেন সম্মানসূচক ডি.লিট। মহামারীর এ নতুন বাস্তবতায় তার সঙ্গে ছোট্ট সাহিত্য আড্ড হয় দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের। সেই আড্ডার অংশবিশেষ তুলে ধরা হল।

যুগান্তর: করোনায় গৃহবন্দি সময়ে কী লিখছেন কী পড়ছেন?

সেলিনা হোসেন: আসলে এ সময়টাকে আমি গৃহবন্দি বলব না, বলব সুস্থ থাকার একটা প্রক্রিয়া। এ সময় আমি একটি উপন্যাস লিখছি। নাম- বধ্যভূমিতে বসন্ত বাতাস। মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক এ উপন্যাসটি শেষ পর্যায়ে আছে। আর পড়ছি এ কে শেরামের মনিপুরি মঞ্জুষা আর মাশরুর আরেফিনের আলথুসার।

যুগান্তর :বর্তমানে বাংলাদেশের সাহিত্যে ভালো লেখকের অভাব, নাকি ভালো পাঠকের অভাব?

সেলিনা হোসেন: আমি মনে করি ভালো লেখকের অভাব নেই। নবীন প্রবীণ অনেক লেখক ভালো লিখছেন। কিন্তু ভালো পাঠকের অভাব আছে বলে মনে হয়েছে।

যুগান্তর: জীবিত তিনজন লেখকের নাম জানতে চাই যাদের লেখা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সেলিনা হোসেন: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, রাবেয়া খাতুন।

যুগান্তর: লেখক হিসেবে বহুল আলোচিত কিন্তু আপনার বিবেচনায় যাদের নিয়ে এতটা আলোচনা হওয়ার কিছু নেই- এমন তিনজন লেখকের নাম বলেন

সেলিনা হোসেন: এমন লেখক আছেন, কিন্তু এখন নাম বলতে চাচ্ছি না। তারা মন খারাপ করতে পারেন।

যুগান্তর: আপনার দেখা সেরা সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র কোনটি?

সেলিনা হোসেন: পথের পাচালী।

যুগান্তর: অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে কার অভিনয় আপনার ভালো লাগে?

সেলিনা হোসেন: ফেরদৌসি মজুমদার

যুগান্তর: এমন কোনো নায়ক আছে কি যাকে দেখলে প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে?

সেলিনা হোসেন: এক সময় উত্তম কুমারকে দেখলে এমন মনে হতো। (হাসি)

যুগান্তর: জীবিত একজন রাজনীতিবিদের নাম জানতে চাই যাকে আপনি আদর্শ মনে করেন

সেলিনা হোসেন: শেখ হাসিনা

যুগান্তর: দুই বাংলার সাহিত্যে তুলনা করলে বর্তমানে আমরা কোন বিভাগে এগিয়ে আর কোন বিভাগে পিছিয়ে?

সেলিনা হোসেন: দুই বাংলার সাহিত্যে তুলনা করলে আমরা একটা সমতার জায়গায় আছি। আমরা আগানো পিছানোর কথা বলবো না। গল্প কবিতা উপন্যাস সব ক্ষেত্রে আমরা সমতার জায়গায় আছি বলে আমি মনে করি।

যুগান্তর: একজন অগ্রজ ও একজন অনুজ লেখকের নাম জানতে চাই যাদের আপনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন

সেলিনা হোসেন: সনজিদা খাতুন, মনি হায়দার।

যুগান্তর: এমন দুটো বইয়ের নাম জানতে চাই যেগুলোকে আপনি অবশ্যপাঠ্য মনে করেন?

সেলিনা হোসেন: মহাশ্বেতা দেবী সংকলিত ও সম্পাদিত ভেরিয়ার এল্যুইন নির্বাচিত রচনা, অনিতা অগ্নিহোত্রির মহানদী।

যুগান্তর: গানে আছে, 'প্রেম একবারই এসেছিল জীবনে' আপনার জীবনে প্রেম কতবার এসেছিল?

সেলিনা হোসেন: প্রেম একবার নয়, দু'বার এসেছে জীবনে

যুগান্তর: প্রচলিত সমাজব্যবস্থার কোন বিষয়টি আপনার ভালো লাগে আর কোনটি খারাপ লাগে?

সেলিনা হোসেন: আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার দিকটি ভালো লাগে। যখন বাঙালি সংস্কৃতিকে সবাই বড় করে তোলে তখন গর্ববোধ করি। আর খারাপ লাগে গণমানুষের প্রতি অবহেলা।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত