Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

দুই দিনে ২৫০ হামলা ইসরাইলের

ইসরাইলের কারণে গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৫, ১০:০৫ পিএম

ইসরাইলের কারণে গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

Advertisement

গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে যে ক্ষীণ আশার রেখা তৈরি হয়েছিল তা আবারও ঝাপসা হয়ে আসছে। সম্প্রতি একাধিকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হতে পারে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ও হামাসের এক শীর্ষ নেতাও। কিন্তু সেই সম্ভাবনায় আবারও ধাক্কা।

 দোহায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যত ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনের এক কর্মকর্তা। শুক্রবার রাতে তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইসরাইলি প্রতিনিধিদল আলোচনা বিলম্বিত করেছে। আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নাম করে মূলত সময়ক্ষেপণ করছে তারা। 

ফিলিস্তিনি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, দোহায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে আট দফা আলোচনা হয়েছে। ইসরাইল দোহায় এমন একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে যাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রতিনিধিরা কৌশলে গতি মন্থর রাখছে। 

মূল আলোচ্য বিষয় গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তা বিতরণ, যেগুলোতে এখনো মতবিরোধ রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন নেতানিয়াহু। 

এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির চুক্তি হবে এবং পরে স্থায়ী চুক্তির আলোচনা শুরু হবে। কিন্তু তিনি হুমকি দেন, হামাস যদি ইসরাইলের শর্তে রাজি না হয় তাহলে গাজায় আবারও হামলা শুরু হবে। 

এই আলোচনার একটি বড় জটিলতা হলো গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা কতদূর পর্যন্ত সরে যাবে। পঞ্চম দফা আলোচনায় ইসরাইল বলেছিল তারা সীমান্ত থেকে ১-১.৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকবে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা যে মানচিত্র দিয়েছে তাতে দেখা গেছে, সেনারা গাজার তিন কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে থাকবে। 

এই ম্যাপ অনুযায়ী, রাফার পুরো অংশ, খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চল (খুজা গ্রামের ৮৫ শতাংশ), বেঈত লাহিয়া ও বেঈত হানোনের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং গাজা সিটির তুফাহ, সেজাইয়া ও জেইতুন এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি থাকবে। 

হামাস এই মানচিত্র প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে বিশ্বাস ভঙ্গ হিসাবে দেখছে। এদিকে মানবিক সহায়তা বিতরণ নিয়েও রয়েছে তীব্র মতানৈক্য। হামাস চাচ্ছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ হোক। অথচ ইসরাইল বিতর্কিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’র মাধ্যমে তা চালাতে চায়। যার ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে ৮০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। 

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইসরাইলি পক্ষ আলোচনায় আগ্রহী এমন চিত্র উপস্থাপন করলেও নেতানিয়াহুর আমেরিকা সফরকালে কোনো প্রকৃত অগ্রগতি হয়নি। এসব কারণে যুদ্ধবিরতি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং যে কোনো সময় তা ভেস্তে যেতে পারে। 

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী। শনিবার ভোর থেকে ইসরাইলি সেনাদের হামলায় গাজায় অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৩০ জন ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮০ জন। 

আলজাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে ইসরাইলি সেনারা গুলি চালায়। সেখানে খাবারের জন্য জড়ো হওয়া শত শত মানুষের ভিড়ে নির্বিচারে গুলি চালানোর ফলে অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন আরও ১৩০ জন। 

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় মোট ২৫০ বার হামলা চালিয়েছে তারা। সেনাদের দাবি, এসব হামলা ছিল সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুর ওপর। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক জানিয়েছেন, গাজায় জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীরা মারাÍক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। 

তিনি আরও বলেছেন, ‘শুক্রবার রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’ জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত বছর তাদের ১২৬ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। যা জাতিসংঘের ইতিহাসে কোনো একক সংঘাতে সর্বোচ্চ ত্রাণকর্মী নিহতের সংখ্যা। ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৭৬২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন আহত হয়েছেন। 

দিন দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে গাজার পরিস্থিতি। ইসরাইলি নৃসংশতার শিকার হচ্ছে শিশুরাও। এরই মধ্যে অন্তত ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ। 

তারা বলেছে, লজ্জাজনক আন্তর্জাতিক নীরবতার মধ্যেই এই মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে রেখেছে এবং খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। যা আধুনিক যুগের সবচেয়ে নিষ্ঠুর অবরোধের একটি উদাহরণ। ইতোমধ্যে ৬৭ জন শিশু দুর্ভিক্ষে মারা গেছে এবং উপত্যকার প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ভয়াবহ খাদ্য সংকটে ভুগছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

ইসরাইল গাজা

Advertisement

আরও পড়ুন

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ঘরেই অস্বস্তি, বাবাকে সতর্ক করেছিলেন বড় ছেলে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ঘরেই অস্বস্তি, বাবাকে সতর্ক করেছিলেন বড় ছেলে

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা, গোপন বৈঠক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা, গোপন বৈঠক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

তুরস্ক-কাতার-ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি

তুরস্ক-কাতার-ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ‘বদর’ চুক্তি

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ভিডিওটি ‘ভুয়া’: সৌদি

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ভিডিওটি ‘ভুয়া’: সৌদি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম