বিএমইউতে বিশেষজ্ঞদের কর্মশালা
ওষুধ ছাড়াও যে পদ্ধতিতে ফুসফুস রোগের চিকিৎসা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৮ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিওপিডি, হাঁপানি বা ফুসফুসের ফাইব্রোসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে শুধু ওষুধই সবসময় যথেষ্ট নয়। এসব রোগে আক্রান্তরা ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারান।
তবে নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়ামের পাশাপাশি সঠিকভাবে ওষুধ ও ইনহেলার ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। বিশেষ করে স্বল্প খরচে (লো-রিসোর্স সেটিং) পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে রোগীদের আবার কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর করে তোলা যায়।
রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন’ বিষয়ক দিনব্যাপী হাতে-কলমে কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হল এক্সটেনশনে বিএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের (বিএসপিএমআর) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় রোগীদের নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, বিশেষ করে পার্সড-লিপ ব্রিদিং, হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সঠিক নিয়মে ওষুধ ও ইনহেলার ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চেয়ারে সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে বসলে কিংবা কোনো কিছুতে ভর দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে দাঁড়ালে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে ইনহেলার ব্যবহারের পরও শ্বাসকষ্ট না কমলে, ঠোঁট নীল হয়ে গেলে, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা কথা বলতে কষ্ট হলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ফুসফুসের সাধারণ গঠন (অ্যানাটমি), পুনর্বাসনের আধুনিক পদ্ধতি, প্রাথমিক মূল্যায়নের কৌশল (প্রি-অ্যাসেসমেন্ট টুলস) এবং ক্লিনিক্যাল সিমুলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. এ. শাকুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী।
অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, ফুসফুসীয় পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে। আমরা বিএমইউকে এ ক্ষেত্রে একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
চিকিৎসাসেবায় ফিজিক্যাল মেডিসিন, পালমোনোলজি (বক্ষব্যাধি), ফিজিওথেরাপি, নার্সিং ও পুষ্টিবিজ্ঞানসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বিত (মাল্টিডিসিপ্লিনারি) উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. এম. এ. শাকুর বলেন, সিওপিডি, হাঁপানি বা ফুসফুসের ফাইব্রোসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে শুধু ওষুধই সবসময় যথেষ্ট হয় না। রোগীরা ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারান। বিশেষ করে স্বল্প খরচে (লো-রিসোর্স সেটিং) পুনর্বাসনের মাধ্যমে সর্বস্তরের রোগীদের পুনরায় কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর করে তোলাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজিজেস অব দ্য চেস্ট অ্যান্ড হসপিটালের (এনআইডিসিএইচ) পরিচালক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও বিএমইউর ডিন অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ মুন্সী এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (চ্যাব) মহাসচিব ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া।
বক্তারা দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের চিকিৎসায় বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টার (মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ) ওপর জোর দেন। ড্যাব মহাসচিব ডা. শাকিল বিএসপিএমআরের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিবছর এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
কর্মশালায় প্রধান রিসোর্স পারসন হিসেবে দিকনির্দেশনা দেন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিএম মনসুর হাবিব। তিনি পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন কার্যক্রমের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের একটি সুসংগঠিত ও দক্ষ খাত গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানেরও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাদিম কামাল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।
