Logo
Logo
×
   

Advertisement

অন্যান্য

গুমের শিকার সালাহউদ্দিন হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Advertisement

মো. শাহাদাতুর রহমান

মো. শাহাদাতুর রহমান

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

গুমের শিকার সালাহউদ্দিন হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি

Advertisement

২০১৫ সাল। বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দি, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গ্রেফতার, পরে রুহুল কবির রিজভীকে অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। দলের অন্য সিনিয়র নেতাদের কেউ জেলে আবার কেউ কেউ আত্মগোপনে ছিলেন। 

তখন চারদিকে শুধু দমন নিপীড়ন চলছিল, বিএনপি নেতা পেলেই জেল। সে সময় দলের ত্রাতা হয়ে আসেন দলের সে সময়ের যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ।  যখন দলের হয়ে কাজ করার কেউ ছিল না সেই সময়ে পাওয়া যেত সালাহউদ্দিন আহমেদের বিবৃতি। 

অবশ্য সালাহউদ্দিনও আত্মগোপনে ছিলেন। তবে গোপন স্থান থেকে পাঠানো বিবৃতিগুলো ছিল বিস্ফোরক, কঠোর ও প্রত্যক্ষ—সরাসরি স্বৈরশাসক হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে। বিবৃতিগুলোর অভিঘাতে এতটাই আলোড়ন সৃষ্টি হয় যে, সালাহউদ্দিনকে জঙ্গী বলতেও দ্বিধা করেননি হাসিনা। নিরাপত্তা সূত্রে জানা যায়, হাসিনা নিজেই সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।

ওই বছরের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে সালাহউদ্দিন নিখোঁজ হন। ৬২ দিন পর একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, শিলংয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় লোকজনের ফোন পেয়ে সালাহউদ্দিনকে আটক করা হয়।

গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক বেসরকারি টেলিভিশন সাক্ষাতকারে সালাহউদ্দিন বলেছিলেন, আমাকে যেদিন চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন তো আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আর আমি জানতামও না যে, আমাকে বর্ডার ক্রস করানো হচ্ছে। ভেবেছিলাম আমাকে হয়তো ক্রসফায়ারের উদ্দেশে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এখানে পরিদর্শনে এসে মনে হচ্ছে এই রাস্তা দিয়েই আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ভারতের শিলং নিয়ে যখন আমার চোখ খুলে দেওয়া হয় তখন বুঝতে পারি, আমাকে হয়তো এখন ছেড়ে দেবে। ছেড়ে দেওয়ার পরে পথচারী ও এলাকাবাসীর সহায়তায় আমি পুলিশের দ্বারস্থ হই। কিন্তু পরে আমাকে পাগলাগারদে পাঠানো হয়। তখন অবশ্য আমি ভাবছিলাম, বাকি জীবনটা হয়তো আমাকে এখানেই কাটাতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদকে আটকের পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। একই বছরের ২২ জুলাই ভারতের নিম্ন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ গঠন করা হয়। এই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন খালাস পান।

তবে ভারত সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তাকে সেখানেই থাকতে হয়। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলে খালাস পান সালাহউদ্দিন। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই বছরের ৮ মে সালাহউদ্দিন আহমেদ ভ্রমণ অনুমোদনের জন্য আসাম রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। একপর্যায়ে ভ্রমণ অনুমোদন দেওয়া হলে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ১১ আগস্ট দিল্লি থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও হেভিওয়েট নেতা হিসেবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অবশেষে বিএনপির মনোনয়নে হয়েছেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।   

সালাহউদ্দিন আহমদের জন্ম কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে। ১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া সালাহউদ্দিন প্রাথমিক পর্যায়ের পড়ালেখা শেষ করেন পেকুয়াতে। ১৯৭৭ সালে পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেকর্ড নাম্বার পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ১৯৭৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে। 

১৯৮৪ সালে এলএলবি ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম পাশ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তি হন সালাউদ্দিন। এরই মধ্যে ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। বগুড়ার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব নিযুক্ত হন।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: নতুন মন্ত্রিপরিষদ


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম