ফরাসি বিপ্লবের ঐতিহাসিক চত্বরে লাল-সবুজ পতাকা
Advertisement
হাসান ইলিয়াছ তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস বিজড়িত ঐতিহাসিক বাস্তিল চত্বরে এখন সগৌরবে উড়ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। ১৭৮৯ সালে যেখানে শুরু হয়েছিল বিশ্ব কাঁপানো বন্দিশালা পতনের সংগ্রাম, সেই মুক্তিকামী মানুষের প্রতীক প্যারিসের ‘প্লাস দ্য লা বাস্তিল’ প্রাঙ্গণে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের এই উপস্থিতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে জাগিয়েছে এক অনন্য গর্ব ও উচ্ছ্বাস।
আন্তর্জাতিক শান্তি, টেকসই পরিবেশ ও বস্ত্রশিল্পের বার্তা নিয়ে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিশ্বখ্যাত প্রদর্শনী ‘লা রপ্রিজ দ্য লা বাস্তিল’-এ বিশ্বের সেরা স্থানগুলোতে আলো ছড়িয়ে মাথা উঁচু করে অবস্থান করছে বাংলাদেশের পতাকা।
চলতি মাসের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজিত এই বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে জাতিসংঘের ১৯৫টি সদস্য ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র এবং শান্তির বার্তা নিয়ে মোট ১৯৬টি পতাকা স্থান পেয়েছে। ঐতিহাসিক ‘কোলন দ্য জুয়ে’-এর চারপাশে বৃত্তাকারে ঝুলন্ত এই প্রদর্শনীতে বিশ্বজুড়ে পোশাক খাতের অন্যতম শীর্ষ পরাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি ও গুরুত্ব আলাদাভাবে ফুটে উঠেছে। ‘সঁ নাফ্সঁ সেজোঞ্জ দ্রাপো পুর লা পে’ (শান্তির জন্য ১৯৬টি পতাকা) শীর্ষক এই মহতী উদ্যোগটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ফরাসি শিল্পী জুটি ‘ক্ল্যার এ জঁ-সেব’, গণমাধ্যম সংস্থা ‘ফেস্তিভাল দ্যু মোঁদ’ এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-সংস্থা ‘রিফ্যাশন’।
বাস্তিল চত্বরে বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অহংকারের বিষয় হলো এই পতাকার তৈরির নেপথ্য গল্প। প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত প্রতিটি পতাকাই পরিবেশবান্ধব উপায়ে সংগৃহীত পুরনো ও ফেলনা টেক্সটাইল কাপড় থেকে তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ যেখানে ‘গার্মেন্টস শিল্পের প্রাণকেন্দ্র’ হিসেবে স্বীকৃত, সেখানে সুতি ও টেক্সটাইলের বর্জ্যকে নতুন রূপ দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের এই পতাকাটি শিল্পরসিক ও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। সামাজিক সংস্থা ‘হুরিয়া’-এর কারিগরদের সেলাইয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়ে লাল-সবুজের বুনন যেন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ঐতিহ্য ও টেকসই ভবিষ্যতের নতুন বার্তা ফুটিয়ে তুলেছে।
আয়োজক ও ফরাসি শিল্পীরা জানান, টেক্সটাইলের প্রতিটি টুকরো একেকটি দেশের ঐতিহ্য, পরিচয় ও সংগ্রামের কথা বলে। বৈশ্বিক টেক্সটাইল বাজারে বাংলাদেশের যে অসামান্য অবদান, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলনেও বাংলাদেশ সেই নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিশ্বশান্তির লালন এবং টেকসই ফ্যাশন আন্দোলনের প্রচারই এই প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য। প্রদর্শনী শেষে এই ঐতিহাসিক পতাকাগুলো আন্তর্জাতিক অনলাইন নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘দ্রুও’-এর মাধ্যমে নিলামে তোলা হবে। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্রুও ডটকম-এ সংগৃহীত এই অর্থ পরিবেশ রক্ষা ও আন্তর্জাতিক টেকসই বস্ত্র আন্দোলনে ব্যয় করা হবে, যেখানে বিশ্ব শান্তির পাশাপাশি থাকবে বাংলাদেশের নামও।
প্যারিসের প্রাণকেন্দ্রে বিপ্লবের প্রতীক বাস্তিল চত্বরে বাংলাদেশের এই উজ্জ্বল উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। লাল-সবুজের এই পতাকা শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও বিশ্বশান্তির সপক্ষে বাংলাদেশের সদর্প জানান দেওয়ার এক অনন্য স্মারক।
