Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চালু

Advertisement

Icon

বাসস

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৩০ পিএম

শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’ চালু

প্রমোদতরী হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে শনিবার চালু হয়েছে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

Advertisement

প্রমোদতরী হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে শনিবার (১৫ নভেম্বর) চালু হয়েছে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাজধানীর সদরঘাটে শতবর্ষী এ প্যাডেল স্টিমার যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের নদীমাতৃক ঐতিহ্য তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পিএস মাহসুদ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও নৌ-পর্যটনের মধ্যে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করবে।’

তিনি আরও জানান, আগামী ২১ নভেম্বর থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটে নিয়মিত পর্যটন সেবা শুরু করবে জাহাজটি। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিআইডব্লিউটিসি’র শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার ‘পিএস মাহসুদ’কে সংস্কার ও পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

ড. সাখাওয়াত বলেন, ‘পিএস মাহসুদ শুধু একটি জাহাজ নয়, এটি বাংলাদেশের নদীমাতৃক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম দেখুক, একসময় নদীই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ।’

তিনি আরও জানান, নদী ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নৌ-পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়াতে পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্নসহ আরও কয়েকটি পুরনো স্টিমার মেরামতের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া নৌ-পরিবহন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, এই প্যাডেল স্টিমারটি পুনরায় চালু হওয়ায় দেশি-বিদেশি বহু পর্যটককে আকৃষ্ট করবে। এই বিলাসবহুল জাহাজটিতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার, বাংলা সংগীতের লাইভ পরিবেশনাসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তারা জানান, স্টিমারটির সংস্কার ও আধুনিকীকরণে মূল কাঠামো ও ঐতিহাসিক নকশা অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তবে, ইঞ্জিন, নিরাপত্তা ও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আধুনিক করা হয়েছে।

এতে রয়েছে আধুনিক কেবিন, পর্যটকবান্ধব ডেক ও ডিজিটাল নেভিগেশন ব্যবস্থা।

স্টিমারটি প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে বরিশাল এবং প্রতি শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকা যাবে। সকাল ৮টায় রাজধানীর সদরঘাট থেকে ছেড়ে রাতে বরিশালে পৌঁছাবে। যাত্রাপথে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ ও অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ করবে যাত্রীরা।

নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক মানের লাইফবোট, অগ্নি-নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও জিপিএস ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবেশবান্ধব কম কার্বন-নিঃসরণ প্রযুক্তির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা নদী দূষণ কমাতে সহায়তা করবে।

আগে স্টিমারটি শুধু রাতেই চলত। এবার দিনের ভ্রমণ চালু হওয়ায় পর্যটকরা নদী ও নদীর তীরের সৌন্দর্য আরও বেশি উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করছেন বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তারা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম