Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

অতিরিক্ত সংস্কার রাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল করে না ফেলে: আইন উপদেষ্টা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৩ পিএম

অতিরিক্ত সংস্কার রাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল করে না ফেলে: আইন উপদেষ্টা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আমাদের দেশে যারা অ্যাথলেট আছে তাদের যদি আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টা ট্রেনিং করান, তাহলে সে উসাইন বোল্ট হয়ে যাবে, নাকি সে মারা যাবে। অবশ্যই মারা যাবে। কাজেই আমাদেরকে বুঝতে হবে, অতিরিক্ত সংস্কার যেটা আমি নিতে পারি না। সেরকম সংস্কার করতে গিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলি কিনা সেটাও আপনাদের চিন্তা করতে হবে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের জগন্নাথ-সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ঢাকায় ই-পারিবারিক আদালত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

সংস্কারের প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সংস্কার নিয়ে কয়েক ধরনের বিভ্রান্তি কাজ করে। অনেকে দেখি বলে কোথায় সংস্কার, দৃশ্যমান হচ্ছে না। প্রতিদিন আইসিটির বিচার টিভিতে দেখায় তখনও বলে বিচার দৃশ্যমান হচ্ছে না। আমরা মনে করি, সংস্কার মানে হচ্ছে সংবিধান পরিবর্তন করা। আমাদের সমস্ত চিন্তা হচ্ছে সংবিধান পরিবর্তন হয়নি, তার মানে সংস্কার হয়নি। 

ই-পারিবারিক আদালতে প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, শুধু মামলা দায়ের করা না। নথি ব্যবস্থাপনা শুনানি ও রায় সবকিছুই অনলাইনে হয়ে যাবে। আমরা এটাকে পেপারলেস কোর্ট বলতে পারি। এতে ভোগান্তি কমবে, সময় বাঁচবে, দুর্নীতি ও খরচ কমবে—এটা নিয়ে আমাদের কারও কোন সন্দেহ নেই। আমাদর প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও ও বাসার নিচে দুইটা বড় অফিস আছে। উনার সবচেয়ে বড় অফিস হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। পৃথিবীতে যেই সমস্ত দেশ ডিজিটালাইজড হয়েছে, যে সমস্ত দেশ পেপারলেস হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আদালত প্রাঙ্গনে আসাটা আমাদের জন্য এক্সসাইটিং, কিন্তু বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটা আজাবের মতো। এখানকার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা কখনোই মক্কেল ফ্রেন্ডলি ছিল না। যদি সার্ভার ডাউনের মতো কুচক্রের মধ্যে না পড়ি তাহলে সত্যিকার অর্থেই ই-পারিবারিক আদালত মানুষের উপকারে আসবে। উকিলদের ব্যাপারে মক্কেলদের মধ্যেও বিরূপ মনোভাব রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আসলে আমাদের সমাজে বলি পরিবর্তন, কিন্তু একটা ন্যস্ত স্বার্থগোষ্ঠী তারা কোন পরিবর্তন চাই না। বৈরি একটা সমাজ যদি পরিবর্তন করতে চাইও সমাজকে যারা চালাই তারা তো আসলে তত সহজে পরিবর্তন চাচ্ছেনা। পদেপদে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবর্তন কেবল সিস্টেমের নয়, মনস্তত্ত্বেও তো হতে হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, আজকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম চালু হলো। এর ফলে সময়, শ্রম ও মামলার জট নিবরাস ঘটবে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মো. সাব্বির ফয়েজ, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. খোরশেদ মিয়া আলম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ইকবাল হোসেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম