ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জোর করে কিংবা হুমকি দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি অন্যের জমিতে প্রবেশ করে এবং সেই জমি নিজের বলে দাবি করে ভোগদখল করে থাকে, তাহলে সেটি জোরপূর্বক জমিদখল হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়। সে কারণে জমিদখলের অভিযোগ সময়মতো করতে হয়। তা না করলে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে দখলকারী ফৌজদারি মামলা থেকে বাঁচতে পারে। এমনকি জমির মালিকানা দাবিও করে বসতে পারে।
জোরপূর্বক জমিদখলের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও ভুক্তভোগী হিসাবে আপনাকে হাল ছাড়লে চলবে না। আইন আপনার পাশে আছে—শুধু সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়াই মূল বিষয়। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে দক্ষ আইনজীবীর সহায়তা নিতে হবে।
যেখান থেকে সহায়তা পেতে পারেন—
১. থানা ও জেলা পুলিশের সহায়তা
২. জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
৩. উপজেলা ভূমি অফিস
৪. জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল ব্যক্তিরা বিনামূল্যে আইনজীবীর সহায়তা পেতে পারেন)।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জোরপূর্বক জমিদখল করা একটি ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় দণ্ডনীয় অপরাধ।
১. দণ্ডবিধি ৪৪১ ধারা– অবৈধ অনুপ্রবেশ (ক্রিমিনাল ট্রেসপাস)
অনুমতি ছাড়া কারও জমিতে প্রবেশ করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. দণ্ডবিধি ৫০৬ ধারা– ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদান
হুমকি বা ভয় দেখিয়ে জমিদখল করা হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়।
জমিদখলের শিকার হলে যে ধাপগুলো অনুসরণ করা উচিত—
১. থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিড) বা এফআইআর (FIR) করা।
২. জমির বিবরণ, দখলের সময় ও অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করতে হবে।
৩. প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তা নেওয়া উচিত।
৪. চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা কাউন্সিলরের মাধ্যমে সালিশের চেষ্টা করা।
৫. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের।
৬. ভূমি অফিসকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
সিভিল কোর্টে মামলা করা উচিত। প্রশাসনিক ব্যবস্থা কাজ না করলে আপনি সিভিল কোর্টে মামলা করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ায় যা করতে হবে— মালিকানা সংক্রান্ত মামলা দায়ের করুন। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইতে পারেন, যাতে দখলদার জমিতে কোনো নির্মাণ বা পরিবর্তন করতে না পারে। অনেক সময় জমির মূল কাগজপত্র, খাজনা রশিদ ও দখলের প্রমাণাদি আদালতে জমা দিন।

