Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৭ হত্যা

ডিবি হারুন ও মনিরুলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

ডিবি হারুন ও মনিরুলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ ও সাবেক সিটিটিসি প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

২০১৬ সালে গাজীপুরের পাতারটেক এলাকায় কথিত ‘জঙ্গি আস্তানা’ নাটক সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আলোচিত এ ঘটনায় প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে শুনানি শেষে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন দিন ধার্য করা হবে।

এ মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। 

প্রসিকিউশন বলছে, অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তারাও সে সময় বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অপারেশন বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল পরিকল্পিতভাবে একটি ভুয়া ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যা করে এবং ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে প্রচার করা হয়। পরে নিহতদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও তদন্তে উঠে আসে যে, তারা বিচারবহির্ভূতভাবে নিহত হন এবং পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ, নথি যাচাই এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের পর তদন্ত সংস্থা মামলার প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয়। সেই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগ গঠন উপযোগী মনে করে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সাতজনের একজন ছিলেন ইবরাহীম। তিনি যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি, ইবরাহীম কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনায় নতুন করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি হলে ইবরাহীমের বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে ছেলেকে গুম ও হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগই পরবর্তীতে এই মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম