Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

মাহমুদুর রহমান মান্নার ভরাডুবির নেপথ্যে

Advertisement

Icon

নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

মাহমুদুর রহমান মান্নার ভরাডুবির নেপথ্যে

Advertisement

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনে ধরাশায়ী হয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে শীর্ষে আছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তার শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। এমনকি জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে তার। 

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন জানান, প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা জামানতের টাকা ফেরত পাবেন না।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ১১৪ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩টি। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) সাবেক তিন বারের এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন ৪৩৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) জামাল উদ্দীন পেয়েছেন ৯১৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (ট্রাক) সেলিম সরকার পেয়েছেন ২৭৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র (সিঁড়ি) রেজাউল করিম তালু পেয়েছেন ১৮৩ ভোট। প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত মীর শাহে আলম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ ভোট। তিনি বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪৩২ ভোট।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মান্না বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কথা ছিল। বিগত চারটি নির্বাচনে তিনি কখনো জয়ের মুখ দেখেননি। শেষ পর্যন্ত এ আসনে নিজ দলের মীর শাহে আলমকে প্রার্থী করে বিএনপি। ক্ষুব্ধ মান্না বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থিতা রাখেন। তবে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে নানা সমস্যার কারণে তিনি ঢাকা-১৮ থেকে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন। 

পরিবেশ না থাকাসহ নানা কারণে জাতীয় পার্টির জিন্নাহ এক সপ্তাহ আগে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। বগুড়া-২ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে সামান্য ভোট পেয়ে মান্না তৃতীয় ও জিন্নাহ পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। 

স্থানীয় ভোটাররা জানান, এবার ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিকটতম হয়েছেন। মান্নার শোচনীয় পরাজয় সম্পর্কে অনেকে মন্তব্য করেছেন, মানুষ হিসেবে সজ্জন মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে ভোটারদের সম্পর্ক ছিল না। সাংবাদিক এড়িয়ে চলেন তিনি। তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরাও জনগণের সঙ্গে সেভাবে মিশতে পারেননি। তাই তাকে এ অবস্থা বরণ করতে হয়েছে। 

এখানে জামানত রক্ষায় ৩১ হাজারের বেশি ভোট পাওয়া প্রয়োজন ছিল। সেখানে তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট। মান্না বৈধ ভোটের মোট ১ দশমিক ৪ শতাংশ লাভ করেছেন।

বগুড়া রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, সাতটি আসনে বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সাতটি আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সাতজন বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পরাজিত হয়েছেন জামায়াতসহ সাতজন প্রার্থী।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম