বেশি ব্যবধানে জয় ও কম ভোটে হারের রেকর্ডও একই দলের
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারও গঠন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দশক পর মসনদে প্রত্যাবর্তনের মাইলফলক অর্জন করেছে বিএনপি। এছাড়া আরো দুটি রেকর্ড যোগ হয়েছে জাতীয়তাবাদী দলটির ঝুড়িতে। এর একটি হলো সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়া এবং অপরটি হলো কম ভোটে হেরে যাওয়া।
বিভিন্ন আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের এই রেকর্ডের তথ্য জানা গেছে।
এবারের নির্বাচনে ২০টি আসনের জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বাধিক ব্যবধানে জয়ী ২০ জনের মধ্যে ১৮ জন বিএনপির, একজন জামায়াতে ইসলামীর এবং অন্যজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ২১ আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১২টি আসনে ৫ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী, পাঁচটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি, একটিতে খেলাফত মজলিস, একটিতে এলডিপি ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় আর ন্যূনতম ভোটে হার– এ দুই শ্রেণিতেই শীর্ষে বিএনপি।
সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন রাঙামাটি আসনের বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৫৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীক নিয়ে পহেল চাকমা পেয়েছেন ৩১ হাজার ১৪১ ভোট। দুজনের ভোটের পার্থক্য ১ লাখ ৭০ হাজার ৪০৩।
নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী হারুন-অর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির জামিল হিজাযী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৫।
সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের মোহাদ্দেস আবদুল খালেক পেয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুর রউফ সরদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৩ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬।
বগুড়া-৭ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মোরশেদ মিলটন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির আতাউল্লাহ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট।
বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী শরীফুল আলম। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আতাউল্লাহ আমীন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৫ ভোট। ভোটের পার্থক্য ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪।
পাবনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৬৪ ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থী কে এম হেসাব উদ্দিনকে হারিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৪০৬ ও জামায়াত প্রার্থীর ভোট ৭৭ হাজার ২৪২।
টাঙ্গাইল-২ আসনে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪২ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থী আবদুস সালাম পিন্টু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১।
জামালপুর-৩ আসনে ১ লাখ ২৬ হাজার ৬০৭ ভোটের পার্থক্যে জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মজিবুর রহমান আজাদী পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৭।
কুমিল্লা-৮ আসনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শফিকুল আলম হেলাল পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ ভোট।
নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী এ কে এম লুৎফুজ্জামান বাবর পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আল হেলাল পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট। দুজনের ভোটের পার্থক্য ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির মজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট।
বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী তারেক রহমান পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। দুজনের ভোটের পার্থক্য ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮।
কুমিল্লা-৪ এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গণ অধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট।
ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ১ লাখ ১৬ হাজার ৩২৬ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট।
বান্দরবানে বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী ১ লাখ ১৫ হাজার ৬২৪ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১২০ ভোট।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৯ ভোটে জয়লাভ করেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৭১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩০২ ভোট।
চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৩ ভোটের পার্থক্যে জয়লাভ করেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৫০৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৭৩ ভোট।
বগুড়া-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৮১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. শাহবুদ্দিন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৫৯ ভোট।
ভোলা-৪ আসনে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬৮ ভোট। জামায়াতের মাওলানা মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৭১০ ভোট।
কম ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের হার
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে সবচেয়ে কম ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী। এখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা রিকশা প্রতীকে ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট।
এরপর সবচেয়ে কম ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন সিরাজগঞ্জ–৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম আকবর আলী পান ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে ৭৭৪ ভোটে হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী। এখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ধানের শীষে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১০ ভোট।
কক্সবাজার–৪ আসনে ৯২৯ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি পান ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট।
চট্টগ্রাম–১৪ আসনে ১ হাজার ২৬ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের নির্বাচনি ঐক্যে থাকা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওমর ফারুক। তিনি পান ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনে ১ হাজার ৬১ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির আবদুল মান্নান। তিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট।

