Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

আদালতে জবানবন্দি

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেন বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রী বীথি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেন বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রী বীথি

Advertisement

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আক্তার। এ বিষয়ে তিনি আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড শেষে বীথিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল বীথির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। 

পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার।

সাত দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার বীথিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া।

আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন করেন জানিয়ে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বলেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। এরপর বীথিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে

জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে বলা হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেন বীথি। আসামি মামলার ঘটনার বিষয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চেয়েছিলেন।

এর আগে শুক্রবার সাফিকুর রহমান এবং তার বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। সাফিকুর প্রথমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলেও পরে অস্বীকৃতি জানান। সে জন্য তাকে পরে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে সুফিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার অপর গৃহকর্মী রুপালী খাতুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর এবং তার স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী ও সুফিয়ার নামে মামলা করেন ভুক্তভোগীর হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা। মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর সবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর ও গৃহকর্মী রুপালীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বীথির সাত দিন ও আরেক গৃহকর্মী সুফিয়ার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুরের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।

মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি।

এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।

মোস্তফা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেননি’।

পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম