আজই পদত্যাগ করছেন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা?
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. এমএ মোমেন। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. এমএ মোমেন এবং অপর দুই কমিশনার কী আজই পদত্যাগ করবেন? কয়েকদিন ধরে তাদের বিদায়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। আসলেই কী গুঞ্জন না সত্যি তা জানতে দুদক চেয়ারম্যান ড. এম মোমেনের সঙ্গে কথা হয় তিনি সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে সকাল থেকেই অফিস করেন।
জানা গেছে, দুদক কর্মকর্তাদের সিনিয়রিটিসহ দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই স্বাক্ষরও করেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যানের কাছে প্রশ্ন ছিল— আপনি এবং আপনার কমিশনকে কী পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, শুনেছি। তবে তা আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারির মুখ থেকে শুনতে চাই। এ জন্য বিকাল ৩টায় তার সাথে সাক্ষাৎ আছে। তখন সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারব।
একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে তিনি দুদকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। কমিশনের কাজে কেউ হস্তক্ষেপও করেনি।
ড. মোমেন বলেন, দুদক কমিশনারদের পদত্যাগের বিষয়ে নিয়ম হচ্ছে, পদত্যাগ করতে হলে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে তা উল্লেখ করে এক মাস আগেই জানাবেন। এখন দেখা যাক প্রকৃতপক্ষে কী হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ড. এমএ মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন— অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী (তদন্ত) এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ (অনুসন্ধান) কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর। এর মধ্যে আলি আকবার আজিজী যোগদান করেন ১১ ডিসেম্বর এবং হাফিজ আহসান ফরিদ যোগদান করেন ১৫ ডিসেম্বর।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। বিএনপির নিয়োগ দেওয়া দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান, কমিশনার ঢাবির সাবেক ভিসি মনিরুজ্জামান মিঞা এবং অডিটর মনিরুদ্দিনকে।
২০০৭ সালে জরুরি সরকার রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে বিএনপি সরকারের নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানসহ সব কমিশনারকে সরিয়ে দিয়ে সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান, জেলা জজ হাবিবুর রহমান ও অডিট বিভাগের মঞ্জুর মান্নানকে কমিশনার নিয়োগ দেয়।
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে জরুরি সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন ভেঙে দেয়। তবে চেয়ারম্যান সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী পদত্যাগ করতে তিন মাস সময় পান।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার তাদের পছন্দের লোকদের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়।

