Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৩৮ শিশুর মৃত্যু

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৩৮ শিশুর মৃত্যু

হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশু। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

চলতি বছর হাম রোগে অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৩২ শিশুর। ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগটি ছড়িয়েছে।

রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন এবং রাজশাহী ও পাবনায় ১ জন করে শিশু মারা গেছে।

তবে সব জেলা ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য মিলিয়ে চলতি বছর ৪৬ এরও বেশি মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহাখালী ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছর ৫৬০ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে, যেখানে গত বছর পুরো বছরেই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৯ জন। চলতি মাসের ২৯ দিনে সেখানে ৪৪৮ জন ভর্তি হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতিও গুরুতর। সেখানে আলাদা আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ এবং নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা টিকা গ্রহণ না করাকে প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফুন্নেসা বলেছেন, প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া ভালো হলেও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখা যায়। কিছু ছোট কমিউনিটি বা পরিবার যেখানে টিকা নেওয়া হয়নি, তারা রোগের উৎস হয়ে থাকে।

ইপিআই পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর বিশেষ হাম টিকা ক্যাম্পেইন হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে দেশের পরিস্থিতির কারণে এটি সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম তিনবার ব্যাহত হয়েছে। ভিটামিন-এ ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোও বন্ধ থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মজুদ প্রায় শেষ। মাঠ পর্যায়ে মাত্র এক মাসের টিকা আছে। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য নতুন টিকা ইতোমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং ঈদুল আজহার আগে বা পরে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।

হাম রোগ দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। হামের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তাই মূলত জটিলতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা হয়। শিশুর চোখের ক্ষতি রোধে ভিটামিন-এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম