Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

বাল্যবিবাহ আইন কী, এ আইনে কী সাজা রয়েছে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

বাল্যবিবাহ আইন কী, এ আইনে কী সাজা রয়েছে

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও শাস্তির বিধান ২০২৬। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো একটি গভীর সামাজিক ব্যাধি। সরকারি নানা উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সত্ত্বেও দারিদ্র্য এবং সামাজিক চাপের কারণে অনেক পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র, অশিক্ষিত ও প্রান্তিক পরিবারগুলো নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপে পড়ে কন্যাশিশুর বিয়ে অল্প বয়সেই দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বাল্যবিবাহ কেবল একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে না, এটি দেশের প্রচলিত আইনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বাল্যবিবাহ আসলে কী?

বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুরুষের ক্ষেত্রে: নূন্যতম ২১ বছর।

নারীর ক্ষেত্রে: নূন্যতম ১৮ বছর।

এর নিচে যেকোনো বিয়েই বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হবে। তবে বিশেষ প্রেক্ষাপটে ১৬ বছর বয়সে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিয়ের একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

বাল্যবিবাহ আইন, ১৯২৯ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো শিশুকে বাল্যবিবাহ করতে বা করাতে বাধ্য করতে পারবে না। এখানে শিশু বলতে ওই ব্যক্তিকে বোঝাবে, যার বয়স পুরুষ হলে ২১ বছরের নিচে এবং নারী হলে ১৮ বছরের নিচে।

তবে ২০১৫ সালে সরকার এ নীতিমালা সংশোধন করে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখলেও ১৬-তে ইচ্ছা করলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে দিতে পারবে বলে নির্ধারণ করা হয়।

বাল্যবিবাহ আইনের শাস্তির বিধানসমূহ

বাল্যবিবাহ আইন, ১৯২৯-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো অভিভাবক ২১ বছর বয়সের নিচে পুরুষ বা ১৮ বয়সের নিচে কোনো মেয়ের হয়ে বাল্যবিবাহের চুক্তি করলে, তার এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে মেয়েদের শাস্তির বিধান রাখা হয়নি।

বাল্যবিবাহ নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৬ বছরের কম হলে তা বাল্যবিবাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে আইনে বলা হয়, বিবাহকারী, বিয়ে পরিচালনাকারী ও অভিভাবককে উল্লিখিত শাস্তি দেওয়া যাবে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড প্রযোজ্য হবে না; জরিমানার বিধান অভিন্ন থাকবে।

নতুন এ আইনে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করে দোষীদের সাজা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়। তবে বিয়ে বাতিলের বিষয় থাকলে তা করবেন পারিবারিক আদালত।

আইনে বলা হয়, বাল্যবিবাহ বন্ধে ১৯২৯ সালের আইনে এক মাসের জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। পরে তা সংশোধন করে এক মাস জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা হয়। তার পরও বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটায় শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বরের শাস্তি

শিশু বিবাহকারী কেউ ২১ বছর বয়সোর্ধ্ব পুরুষ বা ১৮ বয়সোর্ধ্ব মহিলা হয়ে কোনো বাল্যবিবাহের চুক্তি করলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাবাসে বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।

বিয়ে পরিচালনাকারীর শাস্তি 

এ ছাড়া বাল্যবিবাহ সম্পন্নকারী, অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী, নির্দেশ প্রদানকারীর এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি না তিনি প্রমাণ করেন যে তার বিশ্বাস করার কারণ ছিল, ওই বিয়ে কোনো বাল্যবিবাহ ছিল না।

অভিভাবকের শাস্তি 

বাল্যবিবাহের চুক্তি করেছেন এমন ভারপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি, বাবা-মা বা অভিভাবককে ধরা হবে তিনি বা তারা উক্ত বিয়েতে উৎসাহদানের কাজ করেছেন অথবা ওই বিয়ে বন্ধ করায় অবহেলা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এক মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান চিফ হুইপের

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান চিফ হুইপের

বাল্যবিবাহ সামাজিক সংকট: মাহদী আমিন

বাল্যবিবাহ সামাজিক সংকট: মাহদী আমিন

২৭ নভেম্বরকে বাল্যবিবাহ নির্মূলকরণ দিবস ঘোষণা জাতিসংঘের

২৭ নভেম্বরকে বাল্যবিবাহ নির্মূলকরণ দিবস ঘোষণা জাতিসংঘের

ভূরুঙ্গামারীতে মাদক ও বাল্যবিবাহবিরোধী মানববন্ধন

ভূরুঙ্গামারীতে মাদক ও বাল্যবিবাহবিরোধী মানববন্ধন

আনসার বাহিনীর তৎপরতায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ

আনসার বাহিনীর তৎপরতায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে থানায় এসএসসি পরীক্ষার্থী

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে থানায় এসএসসি পরীক্ষার্থী

আরও পড়ুন

দুর্গাপূজায় গুজব-অপপ্রচারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই: আনসার ডিজি

দুর্গাপূজায় গুজব-অপপ্রচারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই: আনসার ডিজি

ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি

ধর্মের নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে: রাষ্ট্রপতি

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের ১০ দফা সুপারিশ

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের ১০ দফা সুপারিশ

কে কোন ধর্মের তা বিবেচ্য নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এলজিআরডি মন্ত্রী

কে কোন ধর্মের তা বিবেচ্য নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এলজিআরডি মন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম