যুগান্তরের সংবাদ প্রকাশের জেরে পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠান স্থগিত
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুলিশের সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ অত্যন্ত সম্মানজনক ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ (বিপিএম) ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক’ (পিপিএম) প্রদান অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। মনোনীতদের তালিকায় থাকা বেশ কিছু কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ড ও যোগ্যতা নিয়ে গত ৬ মে দৈনিক যুগান্তরে 'পুলিশ পদক নিয়ে ফের বিতর্ক' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর জনমনে এবং পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুরো তালিকাটি নতুন করে যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে রোববার পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদানের কথা ছিল।
তবে পদকের জন্য মনোনীতদের বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বার্ষিক পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে এই পদক প্রদানের কথা ছিল এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে এর প্রস্তুতি ও প্যারেড অনুশীলন চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী পদক প্রদানের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আদেশ (জিও) জারি হওয়ার কথা থাকলেও শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত কোনো আদেশ জারি করা হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, পদক প্রদানের প্যারেড অংশটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। মূলত যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদে পদকপ্রত্যাশীদের নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসায় বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চমহলের নজরে আসে। এর ফলে পুরো তালিকাটি নতুন করে যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের মূলে যা ছিল: ১০ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া পুলিশ সপ্তাহে ১০৯ সদস্যকে পদক দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদকপ্রাপ্ত এবং দলীয় অনুগত হিসেবে পরিচিত ১১ কর্মকর্তা এবারের তালিকায়ও স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ ‘কথিত জঙ্গি’ দমনে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা, কেউ প্রভাবশালী উর্ধ্বতন কর্মকর্তার ‘ভাগনে কোটায়’ সুযোগ পাওয়া, আবার কেউ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ কাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা রাখার পরও তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
খোদ পুলিশের অভ্যন্তরেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে যে, রাজপথের ত্যাগী ও দক্ষ অনেক কর্মকর্তা এবারও বঞ্চিত হয়েছেন। বঞ্চিত এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে সফল অভিযান চালিয়েও তার নাম কেটে দিয়ে তৎকালীন ডিআইজি নিজের নামে পদক নিয়েছিলেন। এবারও আবেদন করেও তিনি তালিকায় জায়গা পাননি।
রোববার (১০ মে) পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পদক গ্রহণের কথা ছিল মনোনীতদের। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে পদকপ্রত্যাশীদের অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসনের উচ্চমহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। নিয়ম অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি আদেশ (জিও) জারি হওয়ার কথা থাকলেও শনিবার রাত পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হয়।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদক দেওয়ায় এই সম্মানের গৌরব ম্লান হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সেই পুরোনো ধারার পুনরাবৃত্তি রোধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। স্থগিত হওয়া এই অনুষ্ঠান কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে, তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

