এবার স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য হচ্ছেন বিলখেলাপিরাও, তালিকায় আরও যারা আছেন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণখেলাপির পাশাপাশি ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে খেলাপি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, ওয়াসা ও ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবার বিলখেলাপি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি স্তর—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করে যেসব বিষয় সংস্কার প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করেছে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
আখতার আহমেদ জানান, বর্তমানে ব্যক্তিগত ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অযোগ্য হলেও নতুন প্রস্তাবে ঋণের জামিনদার বা গ্যারান্টার হিসেবেও কেউ খেলাপি হলে তাকেও অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওয়াসা, ভূমি করসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো বকেয়া বিল থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের বিলখেলাপিকেই আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশনের মতামত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। একই সঙ্গে লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে কমিশন। ইসি সচিব বলেন, বর্তমানে সব স্থানীয় সরকার আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখ নেই। তাই পাঁচটি আইনেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে কমিশন একমত হয়েছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকেও আইনি কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কমিশনের গৃহীত এসব প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। বিভাগ প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করলে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধনের সুপারিশ করা হবে।
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। ভবিষ্যতে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক স্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা যায় কিনা, তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।
