Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ নিয়ে যা জানা গেল

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগ নিয়ে যা জানা গেল

Advertisement

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকালে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। বিকাল ৫টার দিকে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন স্পিকার।

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্রে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। রোগটির কারণে মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতায় অবনতির কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এরপর থেকেই আলোচনায় এসেছে অটোনমিক নিউরোপ্যাথি কী, কেন হয়, এর লক্ষণ কী এবং এই রোগ কি যে কারও হতে পারেন?

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি কী?

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলো এমন একটি স্নায়ুরোগ, যেখানে শরীরের অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম (এএনএস) বা স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই স্নায়ুতন্ত্র আমাদের অজান্তেই চলতে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, হজম, ঘাম হওয়া, মূত্রথলি ও অন্ত্রের কার্যক্রম।

এই রোগ কেন হয়?

অটোনমিক নিউরোপ্যাথির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ডায়াবেটিস। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া কিছু অটোইমিউন রোগ, বিভিন্ন সংক্রমণ, স্নায়ুতন্ত্রের কিছু বিরল রোগ, ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ এবং বংশগত কারণেও রোগটি হতে পারে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, অটোনমিক নিউরোপ্যাথি বা স্নায়ুতন্ত্রের রোগ সহজ নয়। আবার এটি ডায়াবেটিসের মতো সাধারণও নয়। সংক্রমণজনিত যেসব রোগের নাম বেশি শোনা যায়, সেগুলোর মতো এটিও খুব বেশি প্রচলিত রোগ নয়।

রোগটির লক্ষণ কী?

এই রোগের লক্ষণ হলো- দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি (রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া), হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, খাবার হজমে দেরি, বমিভাব বা পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা প্রস্রাব করতে সমস্যা ও ঘাম কম বা বেশি হওয়া।

রোগটির চিকিৎসা কী?

এই রোগের চিকিৎসায় মূলত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমত, রোগের মূল কারণের চিকিৎসা। যেমন- ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। দ্বিতীয়ত, রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেমন- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হজমের সমস্যা, মূত্রথলির জটিলতা বা অন্যান্য উপসর্গের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জীবনযাপনের পরিবর্তন।

এই রোগ কি যে কারও হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে যে কারও অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও রোগটি হতে পারে। যদিও এই রোগ সব ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কারও ডায়াবেটিস থাকলে, বারবার দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি, দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা বা প্রস্রাবজনিত জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

Advertisement

Advertisement

ঘটনাপ্রবাহ: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম