Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

ডব্লিউএইচওর সঙ্গে আলোচনার পর সিগারেটের আমদানি শুল্ক কমাল মালদ্বীপ

Advertisement

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

ডব্লিউএইচওর সঙ্গে আলোচনার পর সিগারেটের আমদানি শুল্ক কমাল মালদ্বীপ

Advertisement

অবৈধ তামাক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেটের আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। প্রতি প্যাকেট সিগারেটের আমদানি শুল্ক ৮ মালদ্বীপীয় রুফিয়া (প্রায় ৬৪ টাকা) থেকে কমিয়ে ৪ রুফিয়া (প্রায় ৩২ টাকা) করা হয়েছে। সরকারের দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, আগের কর বৃদ্ধি প্রত্যাশিত ফল না দিয়ে বরং অবৈধ তামাক বাজারের বিস্তার ঘটিয়েছিল।

দেশটির অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মুসা জামির পার্লামেন্টে বলেন, ডব্লিউএইচওর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিগারেটের ওপর কর বাড়ানোর ফলে অনেক ধূমপায়ী বৈধ সিগারেট ছেড়ে অবৈধ সিগারেট এবং বিকল্প তামাকজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে বৈধ সিগারেট বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্ব কমে যায়। তিনি বলেন, আমদানি শুল্ক কমানোর মাধ্যমে একদিকে অবৈধ তামাক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে ভোক্তারা আবার নিয়ন্ত্রিত ও বৈধ পণ্য কিনতে উৎসাহিত হবেন।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, কর বৃদ্ধির কারণে বৈধ সিগারেটের খুচরা দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এতে ধূমপানের হার কমার পরিবর্তে অনেক ভোক্তা অবৈধ সিগারেট ও বিকল্প তামাকজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর ফলে যেমন অবৈধ বাজারের বিস্তার ঘটে, তেমনি বৈধ বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্বও কমে যায়। এই পরিস্থিতিই সরকারকে তামাক করনীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিশেষ করে সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির স্বীকৃতিস্বরূপ মালদ্বীপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়ার্ল্ড নো টোব্যাকো ডে অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। তবে সেই স্বীকৃতি পাওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটি কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তামাক করনীতিতে মালদ্বীপের এই পরিবর্তন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, মালদ্বীপের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের অন্যতম ছোট রাষ্ট্র। রাজধানী মালে মাত্র ৫ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং দেশটির জনসংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবুও উচ্চ কর আরোপের পরও অবৈধ সিগারেটের প্রবেশ ঠেকানো যায়নি। এতে সরকারের রাজস্ব কমেছে, অথচ সিগারেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।

সরকারের বিশ্বাস, বৈধ ও অবৈধ সিগারেটের দামের ব্যবধান কমিয়ে আনলে ভোক্তারা আবার বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের দিকে ফিরবেন। একই সঙ্গে সরকারের কর আদায় বাড়বে এবং অবৈধ বাজারের আকর্ষণও কমবে। তবে কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, শুধু করনীতি পরিবর্তন করলেই হবে না; কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করতে হবে, যাতে জনস্বাস্থ্যের লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি অবৈধ সরবরাহ চক্র শক্তিশালী হয়ে না ওঠে। তাদের মতে, এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, অবৈধ তামাক বাণিজ্য মোকাবিলায় শুধুমাত্র কর বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়।

মালদ্বীপই প্রথম দেশ নয়, যারা অবৈধ তামাক বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি পুনর্বিবেচনা করেছে। ভুটান এক দশকেরও বেশি সময় বিশ্বের অন্যতম কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুসরণ করেছিল। কিন্তু ব্যাপক চোরাচালান ও অবৈধ বিক্রির কারণে শেষপর্যন্ত দেশটি সেই কঠোর অবস্থান শিথিল করতে বাধ্য হয়। ভুটানের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, কোনো পণ্যের বৈধ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে অনেক সময় অবৈধ বাজার আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। বিশ্বের সর্বোচ্চ তামাক কর আরোপকারী দেশগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে অবৈধ তামাক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের মতে, এই অবৈধ বাজারকে ঘিরে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অবৈধ সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং তামাক বিক্রেতাদের ওপর একাধিক সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করলেও সরকার আবগারি শুল্ক থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব ঘটনা দেখায়, অবৈধ বাজার বিস্তৃত হলে তার অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মালদ্বীপ সরকার এ সিদ্ধান্তকে ডব্লিউএইচওর সঙ্গে আলোচনার ফল বলে উল্লেখ করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো সুপারিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান নীতি তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশ একদিকে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর আরোপ করছে, অন্যদিকে অবৈধ তামাক বাণিজ্য দমনে আইন প্রয়োগেও গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করা এবং অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ এই তিনটি লক্ষ্যকে সমন্বয় করেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশের বর্তমান নীতিকাঠামো।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম