দেশের স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক সহাবস্থান গুরুত্বপূর্ণ: আবদুল হাই শিকদার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে গুরুত্ব দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন হলো- বাঙালি বাঙালি থাকবে, চাকমা চাকমা থাকবে। অর্থাৎ প্রত্যেকে নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে একটি রাষ্ট্রীয় ছাতার নিচে একসঙ্গে বসবাস করবে। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য এ পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে রোববার ‘বাংলাদেশে আদিবাসী দিবসের গুরুত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘আদিবাসী ধাত্রীদের জীবনমান সুরক্ষায় অবদান’।
আবদুল হাই শিকদার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে এককভাবে ‘বাঙালি’ হিসাবে পরিচিত করার সিদ্ধান্তে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে নজরুল সবার জন্য লিখেছেন। হিন্দুদের নিয়ে লিখতে গিয়ে তিনি মুসলমানদের ছোট করেননি, আবার মুসলমানদের নিয়ে লিখতে গিয়ে হিন্দুদেরও অবমাননা করেননি। তার সাহিত্যের এ সর্বজনীনতা আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।
বিশ্ব আদিবাসী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে যুগান্তর সম্পাদক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ যেমন সুরক্ষিত হতে হবে, তেমনই সেখানে বসবাসরত বাঙালিদের দুর্ভোগ থেকেও মুক্তি দিতে হবে। পারস্পরিক মৈত্রী, সম্মান ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রকৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর জীবনযাপন করে আসছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গবেষণা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশেও বিভিন্ন জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র পরিচয়কে যথাযথ সম্মান দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (ভাষা, গবেষণা ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে বাঙালির পাশাপাশি ৪৫টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংকট মোকাবিলা করছেন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) আবুল কালাম বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিষয়টিকে বাদ দিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে ‘বাংলাদেশে আদিবাসী দিবসের গুরুত্ব’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এছাড়া ‘বাংলাদেশের জনজাতিসমূহের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা : একটি জাতিসত্তা উন্নয়ন অধিদপ্তরের রূপরেখা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।
‘বাংলাদেশের সমতলের আদিবাসী : ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রওশন জাহিদ। আর ‘বাংলাদেশের আদিবাসী : সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, পরিচয় ও অধিকার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম আরিফ মাহমুদ। সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. সামিউল হক।
