Logo
Logo
×
   

জাতীয়

২৫ বছর পর মায়ের কাছে ফিরবেন ফরিদ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

২৫ বছর পর মায়ের কাছে ফিরবেন ফরিদ

মোহাম্মদ ফরিদ দীর্ঘ ২৫ বছর পর কক্সবাজারে তার মায়ের কাছে ফিরবেন। ছবি: সংগৃহীত

শিশু বয়সে বাবার সঙ্গে বিদেশে যেতে মানবপাচারের শিকার মোহাম্মদ ফরিদ দীর্ঘ ২৫ বছর পর কক্সবাজারে তার মায়ের কাছে ফিরবেন। অপেক্ষা ফুরাবে বৃদ্ধ মা নূরজাহান বেগমের।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার থেকে মোহাম্মদ ফরিদের ভাই সৈয়দ আলম ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে রওয়ানা হয়েছেন।‌ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে তারা ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়লফেয়ার সেন্টারে পৌঁছাবেন। এরপর ব্র্যাক ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।

২৫ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে দেশ ছেড়েছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ। বাবার সঙ্গে প্রথমে যান পাকিস্তানে। সেখানে এক দুর্ঘটনায় পা হারান। পরে সেখান থেকে দালালরা তাকে তুরস্কে নিয়ে যায়। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দেশে ফেরেন তিনি।

ব্র্যাক জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট ভোর সোয়া ৫টার দিকে টি কে ৭১২ ফ্লাইটে তুরস্ক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরিদ। দীর্ঘদিন চর্চা না থাকায় ভালোভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছিলেন না। তিনি শুধু নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং কয়েকটি বিচ্ছিন্ন তথ্য দিতে পেরেছিলেন। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে পরিবার খুঁজে বের করতে তাকে ব্র্যাকের আশকোনা মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়।‌ এরপর তার সঙ্গে কথা বলে পরিবারের সন্ধানে কাজ শুরু করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় দেশে ফেরার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।

ব্র্যাকের কক্সবাজার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় মরিচ্যা পালং এলাকার নাছির পাড়ায় গিয়ে ফরিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। 

ব্র্যাক জানিয়েছে, পরিবারকে পাওয়ার তথ্য জানানোর পর তার সঙ্গে আজ বুধবার বিকেলে পরিবারের সাথে ফরিদকে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ফরিদ এ সময় তার ভাই সৈয়দকে জিজ্ঞেস করেন তার তো হাতে একটা আঙ্গুল বেশি ছিলো। এরপর সৈয়দ আলম সেটা নিশ্চিত করেন। 

সৈয়দ আলম জানান, তার বাবা আয়ুব আলী পাকিস্তানে রয়েছেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ফরিদ বড় ছেলে। তুরস্কে যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দুই যুগ পর তারা ভাইকে পাবেন। আর বড় ছেলের জন্য মায়ের অপেক্ষা শেষ হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .